যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ঐতিহাসিক এক ভাষণ দিয়েছেন ব্রিটিশ রাজা চার্লস। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ক্যাপিটল হিলে দেওয়া এই ভাষণে তিনি বর্তমান টালমাটাল বিশ্ব পরিস্থিতিতেও ওয়াশিংটন ও লন্ডনের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ও অটুট মিত্রতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এবং ইউরোপে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে কিছুটা নীতিগত দূরত্ব তৈরি হলেও, গণতন্ত্র রক্ষায় তারা সর্বদা ঐক্যবদ্ধ থাকবে বলে অঙ্গীকার করেন তিনি।
কংগ্রেসের দুই কক্ষ- সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের উপস্থিতিতে চার্লস বলেন, মতপার্থক্য কিংবা মতভেদ যাই থাকুক না কেন, অভিন্ন মূল্যবোধ ও মানুষের জানমাল রক্ষার প্রশ্নে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র সব সময় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করবে। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের দীর্ঘ করতালির মধ্য দিয়ে ভাষণে তিনি ৯/১১-এর হামলা এবং গত এক শতাব্দীর বিভিন্ন যুদ্ধে দুই দেশের একত্রে অবদানের কথা স্মরণ করেন।
ব্রিটিশ রাজা তার বক্তব্যে সরাসরি নাম না নিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ন্যাটো বিরোধী অবস্থান এবং ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রতি ইঙ্গিত করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান বিশ্বে অন্তর্মুখী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী হওয়ার ডাক উপেক্ষা করা উচিত। একইসঙ্গে ইউক্রেনকে সহায়তা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে গণতন্ত্র রক্ষায় ইউক্রেনীয়দের জন্য অটল সমর্থন প্রয়োজন।
এদিকে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক নৈশভোজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, রাজা চার্লস তার সঙ্গে একমত- ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না। ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান ইস্যুতে সামরিকভাবে তার প্রশাসন সফল হচ্ছে। তবে রাজার পক্ষ থেকে ইরান যুদ্ধ বা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা হয়নি। উল্লেখ্য, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইরান যুদ্ধে পর্যাপ্ত সহযোগিতা করছেন না বলে ট্রাম্প এর আগে কয়েকবার সমালোচনা করেছিলেন।
রাজনীতির বাইরে নিজের দীর্ঘদিনের আগ্রহের বিষয় প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব নিয়েও কথা বলেন চার্লস। তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখতে প্রকৃতি রক্ষা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। এছাড়া সফরের অংশ হিসেবে তিনি আমাজন, অ্যাপল, এনভিডিয়া এবং অ্যালফাবেটের মতো শীর্ষ মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে ব্রিটেনে বিনিয়োগ ও স্টার্টআপগুলোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়।
রাজার এই সফরে তার ভাই অ্যান্ড্রুর নাম জড়িয়ে থাকা জেফরি এপস্টাইন কেলেঙ্কারি নিয়ে অস্বস্তি বজায় ছিল। যৌন হেনস্তার অভিযোগে অভিযুক্ত অ্যান্ড্রুর সাথে এপস্টাইনের সম্পর্কের বিষয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের কোনো কোনো সদস্য রাজার কাছে ভুক্তভোগীদের সাথে সাক্ষাতের অনুরোধ জানালেও রাজপরিবার তা গ্রহণ করেনি।
রাজা চার্লস ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দিলেন। এর আগে ১৯৯১ সালে তার মা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ এই সম্মান পেয়েছিলেন।
/কহু