চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পশ্চিম ভূজপুর বড় মসজিদ সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। প্রায় ১৬ ফুট প্রশস্ত এবং আধা কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এ সড়কটি খুঁড়ে দুই মাস পার হলেও কাজ শেষ না করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন তহবিলের ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে সড়কটি উন্নয়নে ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ১৮০ দিনের কার্যাদেশ পেয়ে গত মার্চ থেকে ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সড়কটির কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসবি ট্রেডিং।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক সংস্কারের নামে মাটি খুঁড়ে ফেলে রেখে দীর্ঘদিন কোনো কাজ করা হয়নি। বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। এমনকি বর্ষা শুরুর আগে অন্তত বালি ফেলে চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার অনুরোধও উপেক্ষিত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি অচল হয়ে পড়েছে। চার গ্রামের মানুষ কার্যত ঘরবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ পানি মাড়িয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।
স্থানীয়দের মতে, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী, শ্রমজীবী মানুষসহ সাধারণ জনগণ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে এলাকার সঙ্গে প্রধান সড়কে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।
ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান চৌধুরী শিপন বলেন, আমি বহুবার অনুরোধ করেছি, অন্তত বর্ষা শুরুর আগে বালি দিয়ে হলেও মানুষ চলাচলের উপযোগী করে দিতে। কিন্তু তারা নানা টালবাহানা করে কাজটি করেন নি। ফলে আজ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারের অবহেলা ও সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। এই অবস্থা চললে দুর্ভোগ আরোও বাড়বে।
তাদের মতে, বর্ষার শুরুতেই যদি এমন হয়, তবে ভারী বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। তাই দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। ফলে দ্রুত সংস্কার ও চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান তারা।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসবি ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী কাজী বেলাল সিকদার বলেন, কাজ চলছে। এরি মধ্যে হঠাৎ বৃষ্টি নেমেছে। বৃষ্টি শেষ হলে বালি, বেইস ও ম্যাকাডমের কাজ শেষ হবে। দ্রুতই কাজ শেষ করবো ইনশাল্লাহ।
উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ জোনাইদ আবছার চৌধুরী বলেন, যথাসময়ে ঠিকাদারকে কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছি। আশাকরি বৃষ্টি বন্ধ হলে কাজ পুরোদমে কম সময়ে শেষ করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সময়ের আলো/জোই