গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনা জেলার নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে হাওরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে উঠতি বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার প্রধান নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
বিকাল ৩টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া স্টেশনে কংস নদের পানি বিপৎসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার এবং কলমাকান্দা উপজেলায় উবদাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া মহাদেও, গণেশ্বরী ও মঙ্গলেশ্বরীসহ ছোট-বড় সব নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
পানি বৃদ্ধির ফলে কলমাকান্দার মেদী ও তেলেঙ্গাসহ বেশ কয়েকটি বিলের পাকা ধান তলিয়ে গেছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, জমির নিচু অংশে পানি জমে যাওয়ায় কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে চোখের সামনেই পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। ফসল রক্ষায় কৃষকরা এখন তড়িঘড়ি করে আধাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন।
জেলা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মামুন জানান, আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
পাউবো নেত্রকোনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভারতের চেরাপুঞ্জি এবং দেশের সিলেট ও সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টি হওয়ায় পানি আরও বাড়তে পারে, যা বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত হাওর রক্ষা বাঁধগুলো অক্ষত রয়েছে।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, কৃষকরা যাতে নির্বিঘ্নে ফসল কাটতে পারেন, সে জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড মাঠে কাজ করছে। বাঁধের পিআইসি কমিটি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) সার্বক্ষণিক মাঠ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
সময়ের আলো/জোই