লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনা নদীতে নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন পর তরুণ জেলে মো. শিপনের (২৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর পৌনে দুইটার দিকে দুর্ঘটনাস্থল সংলগ্ন এলাকা থেকেই তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
নিহত শিপন উপজেলার চর লরেন্স ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাশেমের বাড়ির মো. বাবুলের ছেলে। মাত্র ১৪ দিন আগে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে নবীগঞ্জ সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মই জাল দিয়ে চিংড়ির রেণুপোনা সংগ্রহ করতে যান শিপন। জাল ফেলার পর সাঁতরে সেটি টানার সময় অসাবধানতাবশত তার পায়ে জালের রশি পেঁচিয়ে যায়। মুহূর্তেই তিনি গভীর পানিতে তলিয়ে যান। সাথে থাকা অন্য জেলেরা তাৎক্ষণিক চেষ্টা করেও তাকে উদ্ধার করতে পারেননি।
খবর পেয়ে কমলনগর ফায়ার সার্ভিস ও চাঁদপুর থেকে আসা ডুবুরিদের একটি বিশেষ দল টানা দুইদিন উদ্ধার অভিযান চালায়। তবে দীর্ঘ চেষ্টার পরও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। অবশেষে বুধবার দুপুরে নিখোঁজ হওয়ার স্থানটিতেই তার মরদেহ ভেসে ওঠে।
শিপনের প্রতিবেশী আজাদ উদ্দিন জানান, নদীর তলদেশে কোনো গাছের গুঁড়ি বা অন্য কিছুর সাথে জালের বাঁশ ও রশি আটকে যাওয়ায় মরদেহটি দূরে সরে যেতে পারেনি।
মরদেহ উদ্ধারের পর নদীর তীরে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। শত শত গ্রামবাসী ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বিশেষ করে নববধূ আখি আক্তারের আহাজারিতে উপস্থিত সবাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
বিয়ের মেহেদির রঙ মোছার আগেই স্বামীর এমন মৃত্যুতে পরিবারটিতে চলছে শোকের মাতম।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম জানান, নিখোঁজ হওয়ার ৩ দিন পর শিপনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।