গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রায় ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ পিতাকে পরিত্যক্ত ঘরে আটকে রেখে সম্পত্তি লিখে নেওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে।
উপজেলার বাঁশবাড়ি দক্ষিণ পাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী জমসের আলী একসময় কৃষিকাজে যুক্ত ছিলেন। সারাজীবনের পরিশ্রমে তিনি সংসার গড়ে তুললেও কয়েক বছর আগে দুর্ঘটনায় পা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে চলাফেরার ক্ষমতা হারান।
অভিযোগ অনুযায়ী, এই সুযোগে তার একমাত্র ছেলে সালাম ও পুত্রবধূ মর্জিনা কৌশলে ও চাপ প্রয়োগ করে জমসের আলীর প্রায় ১৮ শতাংশ জমি নিজেদের নামে লিখে নেন। এরপর থেকেই তার প্রতি অবহেলা ও নির্যাতন শুরু হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর ধরে তাকে একটি পরিত্যক্ত মাটির ঘরে রাখা হয়। ঘরটি জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে, চালের অসংখ্য ফুটো দিয়ে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করে ভেতর ভিজে যায়। বিদ্যুৎবিহীন ওই ঘরে ন্যূনতম বসবাসের সুযোগও নেই।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাকে পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হতো না এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত রাখা হয়। ফলে তার শরীরে দুর্গন্ধ ও বিভিন্ন স্থানে ক্ষত তৈরি হয়। স্থানীয়রা আরও জানান, মানবিক সহায়তা দিতে কেউ এগিয়ে এলে পুত্রবধূ বাধা দিতেন। এ ছাড়া বৃদ্ধের স্ত্রী হালিমা খাতুনকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতির আশঙ্কায় বৃদ্ধকে পরিত্যক্ত মাটির ঘর থেকে টিনের ঘরে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী জমসের আলী বলেন, আমার সহায়-সম্পত্তি সব লিখে নিল তারা। এখন কেন আমাকে স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে দিচ্ছে না? আমি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইয়ার উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘটনাটি শুনে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। আমি ছেলে ও পুত্রবধূর সঙ্গে কথা বলব, যাতে তারা বৃদ্ধ পিতার থাকা-খাওয়া ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করে। না হলে আমি নিজে বাদী হয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেব।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভুঁইয়া বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও মানবিকভাবে উদ্বেগজনক। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।