চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ছেংগারচর পৌরসভায় জনপ্রতিনিধি না থাকায় নাগরিক সেবা কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। মেয়র ও কাউন্সিলরদের অপসারণের পর থেকে পৌরবাসী নানা সেবা পেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। একই সঙ্গে জনবল সংকটও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রজ্ঞাপনে দেশের সব পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরদের পদ থেকে অপসারণ করা হয়। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ২৬ সেপ্টেম্বর তাদের অপসারণের পর থেকেই ছেংগারচর পৌরসভার কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে।
সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী, ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে জন্মনিবন্ধন, মৃত্যুসনদ, সনদ সংশোধন, নাগরিকত্ব সনদ, চারিত্রিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ, ভূমিহীন সনদ, টিসিবি কার্ড, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার সত্যায়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদান করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র, অনাপত্তিপত্র এবং জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকায় যাচাইকারী হিসেবে কাউন্সিলরদের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে এসব সেবা পেতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন পৌরবাসী।
পৌর কার্যক্রম সচল রাখতে প্রশাসক ও কিছু সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হলেও অধিকাংশ কর্মকর্তা নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালের ৫ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত ছেংগারচর পৌরসভা প্রথমে ‘গ’ শ্রেণিভুক্ত ছিল। পরে ২০১১ সালের ৭ আগস্ট ‘খ’ শ্রেণিতে এবং ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। তবে বাস্তবে এটি এখনও চরম জনবল সংকটে ভুগছে।
‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার কাঠামো অনুযায়ী ১৫৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১১ জন। নির্বাহী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও কর নির্ধারকসহ অল্প কয়েকজন দিয়ে পুরো কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বাকি ১৪৪টি পদ শূন্য, যা মোট পদের প্রায় ৯২ দশমিক ৯০ শতাংশ।
এদিকে রাস্তা ও পৌর কার্যালয়ে জলাবদ্ধতা, অবকাঠামোগত দুরবস্থা এবং প্রশাসনিক উপস্থিতির অভাবে নাগরিক সেবা আরও ব্যাহত হচ্ছে।
বালুরচর গ্রামের মোহাম্মদ হোসেন (৫২) বলেন, আগে সনদের জন্য কাউন্সিলরের সুপারিশ লাগত। এখন সুপারিশ করার কেউ নেই, ফলে ভোগান্তি বাড়ছে।
বারআনী গ্রামের ছিদ্দিকুর রহমান (৫৫) বলেন, প্রতিটি কাজেই এখন বেশি সময় ও খরচ হচ্ছে। জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের মতো জরুরি সেবাও সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না।
ছেংগারচর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শাহ সুফিয়ান খান জানান, তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন এবং প্রতি বৃহস্পতিবার একদিন পৌরসভায় এসে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, পৌর প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি মাসিক সভা ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরের জন্য উপজেলা কার্যালয়ে যেতে হয়।
তবে পৌর প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রশাসক এবং পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর মতে, পৌরসভায় নিয়মিত উপস্থিত না থাকলেও নাগরিক সেবা ব্যাহত হওয়ার কথা নয়। প্রতিটি ওয়ার্ডে আলাদা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং পৌর কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করছেন। কেউ সেবা না পেলে সরাসরি তাঁর কাছে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।