টেক্সটাইল মিলের বিষাক্ত বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে খাল-নদী

সুমন কুমার রায়, টাঙ্গাইল

সারাদেশ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কি ইউনিয়নের বানিয়ারা মৌজার কদিমধল্যা এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের জায়গা দখল করে স্থায়ীভাবে

2026-04-30T03:37:49+00:00
2026-04-30T07:17:52+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
টেক্সটাইল মিলের বিষাক্ত বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে খাল-নদী
সুমন কুমার রায়, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৭ এএম  আপডেট: ৩০.০৪.২০২৬ ৭:১৭ এএম
সংগৃহীত ছবি
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কি ইউনিয়নের বানিয়ারা মৌজার কদিমধল্যা এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের জায়গা দখল করে স্থায়ীভাবে কংক্রিটের পাইপলাইন স্থাপন করার অভিযোগ উঠেছে নবায়ন স্থগিত হওয়া সাদিয়া টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের বিরুদ্ধে। 

শুধু সড়কের জায়গা দখল করে পাইপলাইন স্থাপন করেই খান্ত হয়নি, এই পাইপলাইন দিয়ে কারখানার শিল্পবর্জ্যে দূষিত করা হচ্ছে পাকুল্যা খাল ও লৌহজং নদী। আর এই রাসায়নিকের দুর্গন্ধের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা, হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ। এ নিয়ে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ না মানায় প্রতিষ্ঠানটির নবায়ন স্থগিত করেছে পরিবেশ অধিদফতর। 

লেবার ইন্সপেকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ্লিকেশন (লিমা) সূত্রে জানা যায়, কারখানাটির নিবন্ধনের মেয়াদ চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা সড়ক বিভাগ থেকে অনুমতি নিয়ে দীর্ঘ এই পাইপলাইন স্থাপন করেছে। কিন্তু এ সংক্রান্ত কোনো অনুমতিপত্র দেখাতে পারেনি তারা। অন্যদিকে সড়ক বিভাগ জানিয়েছে, পাইপলাইন স্থাপনের জন্য কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। 

তিন-চার বছর আগে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কসংলগ্ন জামুর্কি ইউনিয়নের কদিমধল্যা এলাকায় কৃষি জমির মাঝখানে সাদিয়া টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড নামে কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। কারখানার দূষিত বর্জ্য খালে বা নদীতে ফেলতে দুই বছর আগে মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে সড়ক বিভাগের জমির ওপর কংক্রিটের পাইপ স্থাপন করা হয়। ওই পাইপ দিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে পাকুল্যা খালে নিয়মিত দূষিত বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। 

খালের পানি গিয়ে পড়ছে লৌহজং নদীতে। দূষণে পাকুল্যা খাল ও লৌহজং নদীর পানি অসহনীয় দুর্গন্ধযুক্ত ও কালো কুচকুচে হয়ে পড়েছে। খাল ও নদীর মাছ মরে যাচ্ছে। বারবার প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি স্থানীয়রা। এতে করে নদী ও খালের পানি ব্যবহারকারীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। 

সম্প্রতি চার দফায় কারখানাটিতে পরিবেশ অধিদফতর অভিযান চালিয়ে ছয় লাখ ৯০ হাজার টাকা জারিমানা আদায় করে। সে সময় কারখানা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দেওয়া হয় যাতে দূষিত বর্জ্য খালে বা নদীতে না ফেলা হয়। এরপরও কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে রাসায়নিক বর্জ্য খালে ফেলা অব্যাহত রেখেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে সাদিয়া টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) শফিকুল ইসলাম জানান, তারা সড়ক বিভাগ থেকে লিখিত অনুমতি নিয়েই কংক্রিটের পাইপলাইন স্থাপন করেছেন। এ ছাড়া ইটিপির মাধ্যমে কারখানার বর্জ্য পরিশোধিত করে খালে বা নদীতে ফেলা হচ্ছে। 

টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক জহিরুল ইসলাম তালুকদার জানান, দূষিত বর্জ্য ফেলার কারণে কারখানাটিতে চারবার অভিযান চালিয়ে ছয় লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বারবার কারখানা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হলেও কোনো তোয়াক্কা না করায় তাদের নবায়ন স্থগিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তারা নিয়ম মেনে না চললে নবায়ন আর দেওয়া হবে না।

সওজের জায়গা দখল করার বিষয়ে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমেরী খান বলেন, অধিগ্রহণকৃত যে ভূমির ওপর দিয়ে মিল কর্তৃপক্ষ কংক্রিটের পাইপলাইন স্থাপন করেছে তার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। এটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে স্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা মনোহর সূত্রধর জানান, পাকুল্যা খালের পাশেই তার বাড়ি। কারখানার বর্জ্য ফেলার কারণে খালের পানি কালো হয়ে গেছে। কারখানার বর্জ্য দিয়ে অনেক দুর্গন্ধ বের হওয়ার কারণে দুই বছর ধরে বাড়িতে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। 

স্থানীয়রা বলছেন, উপজেলার জামুর্কি, ভাতগ্রাম ও বানাইল ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ পানির উৎস পাকুল্যা খাল ও লৌহজং নদী। এই খাল ও নদীতে স্থানীয় বাসিন্দারা মাছ ধরা ছাড়াও গোসল, আবাদি জমিতে সেচ ও গবাদিপশু গোসল করানোর জন্য ব্যবহার করে থাকেন। সম্প্রতি খাল ও নদীর পানি কালো কুচকুচে হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। জন্ম নিচ্ছে পোকা ও বিভিন্ন জীবাণু। এ কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে খাল ও নদীর পানি। পানিতে নামলে শরীর চুলকায় এবং ঘা হয়ে যায়। কারখানার বর্জ্যরে কারণে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে খালের আশপাশের বাড়িতে বসবাস করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বারবার স্থানীয় জনপ্রতিধিদের জানিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   টেক্সটাইল  মিল  বিষাক্ত  বর্জ্য  দূষিত  খাল  নদী 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: