সেচ সংকটে নষ্ট হচ্ছে পাটের চারা

সোহাগ জামান, ফরিদপুর

সারাদেশ

পাটের রাজধানী খ্যাত ফরিদপুরে এ বছর পাটের ফলনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহ ও সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় ক্ষেতেই

2026-04-30T03:41:19+00:00
2026-04-30T03:41:19+00:00
 
  শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২০ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
সেচ সংকটে নষ্ট হচ্ছে পাটের চারা
সোহাগ জামান, ফরিদপুর
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৪১ এএম 
ছবি : সংগৃহীত ছবি
পাটের রাজধানী খ্যাত ফরিদপুরে এ বছর পাটের ফলনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহ ও সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় ক্ষেতেই শুকিয়ে যাচ্ছে চারা। তা ছাড়া চাহিদা মোতাবেক ডিজেল না পাওয়ায় ক্ষেতে পানি দিতে না পারায় মাঠের পর মাঠ পাটক্ষেত শুকিয়ে গেছে। এ কারণে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন চাষিরা। জেলায় এ বছর পাটের বাম্পার ফলনের আশা করা হলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

গত কয়েক দিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে পাটচাষিদের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে এসব চিত্র। প্রচণ্ড খরায় পানির অভাবে পাটক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় পাটগাছ শুকিয়ে বিবর্ণ ও পাতা কুঁচকে যাচ্ছে। কৃষকরা জানান, এ বছর পাট উৎপাদনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন। একদিকে তীব্র খরা অন্যদিকে ডিজেলের অভাবে ক্ষেতে সেচ দিতে না পারায় চারা মরে যাচ্ছে। 

Advertisement
ফরিদপুর কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি রবি মৌসুমে ফরিদপুর জেলার পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৭ হাজার হেক্টর। এ সময় চাষিরা ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ তোলার সঙ্গে সঙ্গেই সেচ দিয়ে পাট আবাদ করতে শুরু করেছে। এ পর্যন্ত ফরিদপুর জেলায় প্রায় ৭০ শতাংশ জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে।
 
জেলার সালথা, নগরকান্দা ও সদর উপজেলার একাধিক পাটচাষি জানান, সময়মতো ক্ষেতে পানি দিতে না পারায় পাটের আবাদে এর প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া পাটের বীজ বপনের সময় মাটি কিছুটা নরম ও ভেজা থাকতে হয়, এতে বীজ সুন্দরভাবে গজাতে পারে। এবার সেটা হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় সময়ে বৃষ্টি না হওয়া এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ডিজেল না পাওয়ায় ক্ষেতে সেচ দিতে পারেননি তারা। 

সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের পাটচাষি সিরাজ মণ্ডল জানান, বিদ্যুতের লোডশেডিং ও চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। সব মিলে তাদের কৃষিকাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আরেক কৃষক আতিয়ার মাতুব্বর বলেন, তিনি প্রতি বছর পাট আবাদ করেন। এ বছর পাট আবাদ করতে গিয়ে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। তার ক্ষেতে পাটের চারায় পোকা ধরেছে। ঠিকমতো সেচ দিতে না পারার কারণে প্রচণ্ড খরায় ক্ষেতের বেশ কিছু পাটগাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এ বছর পাট আবাদে লোকসানের মধ্যে পড়বেন বলে জানান তিনি। 

পাটচাষিরা জানান, পাট চাষের মৌসুমে সেচকাজে ব্যবহৃত ডিজেল সংকট ও বিদ্যুতের ঘাটতি থাকায় সময়মতো তারা মাঠে সেচ দিতে পারছেন না। গত বছর পাটের দাম ভালো পাওয়ায় এ বছর জেলার চাষিরা রেকর্ডসংখ্যক জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। কিন্তু উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা থাকায় বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন তারা। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বোয়ালমারী, নগরকান্দা, সালথা, মধুখালী, ভাঙ্গা ও সদর উপজেলায়। পাটচাষি বেলায়েত হোসেন বলেন, তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে, এখন সেচ দিতে পারছি না, পাটক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টিও নেই, এ কারণে মাঠজুড়ে পাটক্ষেত পুড়ে যাচ্ছে। 

আরেক পাটচাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, সকালে পাম্পে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। দুপুর পেরিয়ে বিকাল হয়ে যায় তবুও ডিজেল পাই না। যদিও পাই তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই কম। চাষি আব্দুল্লাহ শেখ বলেন, ফুয়েল কার্ড দেওয়া হয়েছে। কার্ড নিয়ে পাম্পে গেলেও ডিজেল ঠিকমতো পাই না, কার্ড দিয়ে কী করব। জমিতে সেচ দিতে না পারায় পাটের আগা মরে যাচ্ছে। এ বছর ফলন ভালো হবে না।

এ বিষয়ে জানার জন্য জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শাহাদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রকৃত চাষিদের মাঝে ডিজেল সরবরাহের জন্য ফুয়েল কার্ড ব্যবহার শুরু হয়েছে। আশা করছি, কৃষকদের কিছুটা হলেও উপকার হবে। কয়েক দিনের মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, বৃষ্টি হলে কৃষকদের সংকট কেটে যাবে।

সময়ের আলো/আআ

  বিষয়:   সেচ  সংকট  নষ্ট  পাট  চারা 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: