গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে খামারভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এলিকো অ্যাগ্রোভেট লিমিটেডের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিদের মাঝে গবাদিপশুর কৃমিনাশক ও ভিটামিন-মিনারেল প্রিমিক্স বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়নের পরান এলাকায় অবস্থিত এলিকো অ্যাগ্রোভেট লিমিটেড কারখানা প্রাঙ্গণে সিইও মো. দাছিজুল হক আনিছ ৬০০ বেশি খামারির হাতে এসব উপকরণ তুলে দেন।
এ সময় শান্তিরাম ইউনিয়নের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র খামারিদের জন্য সারাবছরব্যাপী প্রায় ৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকার কৃমিনাশক, ভিটামিন-মিনারেলস ও ভ্যাকসিন সরবরাহের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আনিছ।
খামারিদের মাঝে উপকরণ বিতরণের আগে নবীন উদ্যোক্তাদের নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের এআই টেকনিশিয়ান মো. সাজেদুল ইসলাম খামার ব্যবস্থাপনা, পশুর পুষ্টি, রোগ প্রতিরোধ এবং আধুনিক খামার পরিচালনা বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক দিকনির্দেশনা দেন। অংশগ্রহণকারীরা খামার সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
তখন আনিছ বলেন, কৃষি ও খামার খাত গ্রামীণ অর্থনীতির মূল ভিত্তি। এই খাতকে এগিয়ে নিতে মাঠপর্যায়ে বাস্তব সহায়তা অপরিহার্য। শুধু কথা নয়, কাজের মাধ্যমে পরিবর্তন আনাই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, তার প্রতিষ্ঠিত এলিকো অ্যাগ্রোভেট গত তিন বছরে স্থানীয় ১৯৩ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আগামী দিনে এ সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ৫ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে যুবক-যুবতীদের জন্য বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও আধুনিক খামার গড়ে তুলতে সহায়তার উদ্যোগও চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, শান্তিরাম ইউনিয়নকে বেকারমুক্ত ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলাই আমার দীর্ঘদিনের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছি। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো, ইনশাল্লাহ। আপনাদের আস্থা ও ভোটে যদি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাই, তাহলে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বিস্তৃতভাবে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে এই ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো।
স্থানীয় খামারিরা জানান, পশুর খাদ্য ও চিকিৎসা ব্যয় যেভাবে বেড়ে গেছে, সেই বাস্তবতায় এ ধরনের সহায়তা তাদের জন্য সত্যিকারের স্বস্তি এনে দিয়েছে। প্রত্যেককে প্রায় ৩ হাজার ২০০ টাকার উপকরণ দেওয়া হয়েছে, যা ছোট খামারগুলোর জন্য বাস্তব অর্থে বড় সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।
তারা আরও বলেন, এই সহায়তার ফলে দৈনন্দিন খরচের চাপ কিছুটা হলেও কমবে এবং টানাপড়েনের মাঝেও খামার টিকিয়ে রাখা ও উৎপাদন ধরে রাখা অনেকটা সহজ হবে।
সময়ের আলো/জোই