ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে একটি নতুন অধ্যায় রচিত হচ্ছে। পার্সিয়ান গালফ ডে বা পারস্য উপসাগরীয় দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক লিখিত বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মোজতবা খামেনি বলেছেন, তেহরান ‘নৌপথের শত্রু’-কে নির্মূল করবে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলকে সুরক্ষিত করবে।
মোজতবা খামেনির বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালীতে নতুন বিধি-বিধান ও ব্যবস্থাপনা শান্তি ও অগ্রগতির পাশাপাশি সব উপসাগরীয় রাষ্ট্রের জন্য অর্থনৈতিক সুবিধাও বয়ে আনবে। তবে এ বিষয়ে আর বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
এদিকে, ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌ অবরোধ কয়েক মাস ধরে চলতে পারে এমন সতর্কবার্তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ‘পরিবর্তিত মানচিত্র’ শেয়ার করেছেন।
যেখানে হরমুজের নাম পরিবর্তন করে ‘স্ট্রেইট অব ট্রাম্প’ বা ‘ট্রাম্প প্রণালী’ লেখা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে অ্যাকাউন্টে কোনো ক্যাপশন ছাড়াই ছবিটি পোস্ট করেন ট্রাম্প।
জানা যায়, ২৭ মার্চ দেয়া এক বক্তব্যে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে উপস্থিত লোকজন তার কথা শুনে হেসে উঠলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, গণমাধ্যম হয়তো প্রথমে এটিকে একটি ‘ভুল’ বলে মনে করতে পারে, ‘কিন্তু সবাই জানে, আমি খুব কমই ভুল করি’।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে দুই মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে ইরানের নতুন একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
সেই সঙ্গে তিনি আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করতে এবং ওয়াশিংটনের উদ্বেগের সমাধান করতে রাজি না হওয়া পর্যন্ত কোনো শান্তি চুক্তি হবে না।
ততক্ষণ পর্যন্ত ইরানের ওপর নৌ-অবরোধও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
নতুন এই প্রস্তাবে যুদ্ধাবসানের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়ার কথা বলা হয় এবং জানানো হয় যে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী কোনো তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। তবে ট্রাম্প এই প্রস্তাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।