কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লন্ডভন্ড লবণ মাঠ, দিশেহারা চাষীরা

কক্সবাজার সংবাদাতা

সারাদেশ

কালবৈশাখীর ঝড়ের তাণ্ডবে কক্সবাজার ও বাঁশখালী উপকূলের ৬৮ হাজার একর বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ২ দিনের বৈরী আবহাওয়ায়

2026-05-01T10:16:24+00:00
2026-05-01T10:16:24+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লন্ডভন্ড লবণ মাঠ, দিশেহারা চাষীরা
কক্সবাজার সংবাদাতা
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১০:১৬ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
কালবৈশাখীর ঝড়ের তাণ্ডবে কক্সবাজার ও বাঁশখালী উপকূলের ৬৮ হাজার একর বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ২ দিনের বৈরী আবহাওয়ায় অন্তত এক লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রান্তিক চাষিরা।

বিসিক সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমজুড়ে ১২ দিনের বৃষ্টিতে প্রায় তিন লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন কম হয়েছে। তবে আগামী টানা দুই থেকে তিন সপ্তাহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা ছোঁয়ার আশা রয়েছে।

তীব্র দাবদাহে কক্সবাজার উপকূলে লবণ মাঠে বইছিল উৎপাদনের সুবাতাস। দৈনিক ১২ হাজার মেট্রিক টন থেকে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৩২ হাজার মেট্রিক টনে। কিন্তু রেকর্ড উৎপাদনের সেই সময়ে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ঝড়ো ও ভারি বর্ষণ।

কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বাঁশখালীর উপকূলের হাজার হাজার একর লবণ মাঠ। হঠাৎ কালবৈশাখীর ঝড় ও ভারি বর্ষণে বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ এখন লন্ডভন্ড। মাঠের লবণ গলে যাওয়ার পাশাপাশি নষ্ট হয়েছে উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা ‘বেড বা কাই’। এখন উপকূলের প্রায় ৬৮ হাজার একর জমিতে বন্ধ লবণ উৎপাদন। গত দুই দিন পর আবহাওয়া পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হলে মাঠে এসে পানি সেচ কিংবা ত্রিপল ঠিক করছেন চাষিরা। তবে চাষিদের দাবি- ঝড়ো হাওয়া ও ভারি বর্ষণে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

লবণ চাষীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে মাঠে গিয়ে ত্রিপল সরিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং আবহাওয়া ভালো হওয়ার অপেক্ষায় আছেন। আবহাওয়া অনুকূলে এলে দ্রুত আবার উৎপাদনে ফিরতে পারবেন। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে লবণ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বৃষ্টিতে ৫ একর লবণ মাঠ তছনছ হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৩০০ মণ লবণ নষ্ট হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী ৭-৮ দিনের মধ্যেই আবার মাঠ থেকে লবণ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।


কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভুঁইয়া বলেন, আকস্মিক বৃষ্টিতে সাধারণত লবণ পুরোপুরি নষ্ট হয় না। কারণ চাষিরা আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস বিবেচনায় কাজ করেন। তবে কখনো কখনো হঠাৎ বৃষ্টির কারণে হারভেস্টের জন্য প্রস্তুত কিছু লবণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি আরও জানান, এবারের বড় ক্ষতি হয়েছে মূলত উৎপাদনে। বৃষ্টির কারণে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ দিন উৎপাদন বন্ধ ছিল। দৈনিক গড়ে ২৫ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন ধরা হলে, এতে প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন লবণ কম উৎপাদন হয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, বর্তমানে বিরাজমান আবহাওয়া আরও ২-৩ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর ৫ মে থেকে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকবে না, কারণ তখন সাগরে কোনো লঘুচাপ বা বায়ুচাপজনিত প্রভাব থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, ১৪ মে থেকে এলাকায় তীব্র দাবদাহ শুরু হতে পারে, যা টানা ১০–১৫ দিন স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ৬ মে থেকেই লবণ চাষিরা পুরোদমে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   কালবৈশাখী  তাণ্ডব  লবণ  মাঠ  চাষী 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: