আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে সারা দেশে সরকারি ছুটি থাকলেও চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় ৯১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সেই ছুটি মেলেনি। উল্টো উপজেলা পর্যায়ের একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটি নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
গত ২৯ এপ্রিল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসেনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের বালক ও বালিকা বিভাগের ফাইনাল খেলা ১ মে বিকেল ৩টায় কাসেম মাহবুব উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদের।
বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষকদের দুপুর ২টা থেকে ৩টার মধ্যে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে হাজিরা রেজিস্টারে স্বাক্ষর করে খেলার মাঠে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য হিসেবে গণ্য হবে এবং বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মে দিবসে (১ মে) চন্দনাইশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ছুটি না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষের খবর পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করতে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, বন্ধের দিন কর্তৃপক্ষ আমাদের খেলায় উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করে শিক্ষকদের সাথে বৈষম্য করেছে।
চট্টগ্রামের শ্রম আদালতের সিনিয়র আইনজীবি এড হারুনুর রশীদ রুবেল বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী, মে দিবসে শ্রমিকদের বাধ্যতামূলক ছুটি বা উপযুক্ত মজুরিসহ বিকল্প ছুটির অধিকার রয়েছে। এই দিন ব্যাংক, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অধিকাংশ শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। শিক্ষকরাও এর বাইরে নয়। হয় তাদের ছুটি নিশ্চিত করতে হবে না হয় অতিরিক্ত মজুরি দিতে হবে। না হয় এটি শ্রম আইন লঙ্গন হবে।
বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি আজকে অফিসের কাজে ব্যস্ত আছি। আপনার কিছু জানার থাকলে অফিসে এসে জেনে নিন বলে ফোন কেটে দেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ বলেন, উপজেলার খেলাধুলা পরিচালনায় একটি কমিটি রয়েছে। ইউএনও সভাপতি এবং সংসদ সদস্য উপদেষ্টা হিসেবে থাকেন। সম্ভবত তারা পরামর্শ করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে বিষয়টি তাকে আগে জানানো হয়নি।