হুমায়ূন মেলায় এসে আবেগাপ্লুত অভিনেতা এজাজ

আশরাফুল আলম, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

সারাদেশ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘হুমায়ূন মেলা ১৪৩৩’-এ অংশ নিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রখ্যাত অভিনেতা ডা. এজাজুল ইসলাম।

2026-05-01T19:15:27+00:00
2026-05-01T19:15:27+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
হুমায়ূন মেলায় এসে আবেগাপ্লুত অভিনেতা এজাজ
আশরাফুল আলম, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৭:১৫ পিএম 
অভিনেতা ডা. এজাজুল ইসলাম। ছবি : সময়ের আলো
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘হুমায়ূন মেলা ১৪৩৩’-এ অংশ নিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রখ্যাত অভিনেতা ডা. এজাজুল ইসলাম। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের স্মরণে আয়োজিত এ মেলায় অংশ নিয়ে তিনি স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।
 
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের সামনে নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের উদ্যোগে দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়। এতে হুমায়ূন আহমেদের স্মরণে আবেগঘন বক্তব্য দেন অভিনেতা ডা. এজাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী সঙ্গীত ও নৃত্যের মাধ্যমে হুমায়ূন মেলার উদ্বোধন করেন প্রখ্যাত অভিনেতা অধ্যাপক রহমত আলী এবং প্রখ্যাত অভিনেত্রী ওয়াহিদা মল্লিক জলি।
 
ডা. এজাজুল ইসলাম বলেন, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের হুমায়ূন মেলায় এসে আমার ভীষণ ভালো লাগছে। আনন্দ তো হচ্ছেই, কিন্তু মাঝে মাঝে কান্নাও পাচ্ছে। যখন হুমায়ূন আহমেদ স্যারের গান হচ্ছে, তার গানের সঙ্গে নাচ হচ্ছে, তখন আমার মনে পড়ে যায় সেই আগের দিনের আসল নাচগুলোর কথা, সেই স্মৃতিগুলো। আজকের এই পরিবেশনাও অসাধারণ-যে মেয়েরা নাচলো, যে ছেলেরা অভিনয় করলো, আমি মুগ্ধ হয়ে দেখেছি। এরা যে কতটা ভালোবাসে স্যারকে, সেটা স্পষ্ট।
 
তিনি আরও বলেন, স্যারকে হারানোর কথা মনে হলেই আমার কান্না পায়। কিন্তু আজ এখানে এসে মনে হচ্ছে আমি যেন স্যারকে বারবার ফিরে পাচ্ছি। তার গান হচ্ছে, নাটক হচ্ছে সব মিলিয়ে আমি যেন ১৫-২০ বছর আগের স্মৃতিতে ফিরে গেছি। এই কান্না একদিকে সুখের, আবার অন্যদিকে দুঃখেরও। আমরা অনেকদিন এমন নাচ-গান থেকে দূরে ছিলাম, এখন সবকিছু সরাসরি দেখে মনে হচ্ছে সেই সময়েই আছি।
 
হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের এই আয়োজন আমাকে সত্যিই আবেগাপ্লুত করেছে। স্যার আমাদের ছেড়ে গেছেন ১৪ বছর আগে। এতদিন পর এমন একটি সুন্দর আয়োজন দেখে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। যারা এই মেলার আয়োজন করেছেন, তাদের প্রতি আমার অনেক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।
 
শেষে তিনি বলেন, আমি মনে করি, বাংলা সাহিত্যের এই প্রবাদপ্রতিম মানুষকে নিয়ে এমন মেলা দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলে হওয়া উচিত। তিনি বাংলা সাহিত্যকে অনেক কিছু দিয়ে গেছেন-তাকে স্মরণ করা, সম্মান করা আমাদের সবার দায়িত্ব। এমন আয়োজন বারবার আমাদের তাঁর কথা মনে করিয়ে দেবে।
 
এরপর স্মৃতিচারণমূলক ‘এক আকাশ হুমায়ূন’ সেশনে অতিথিরা হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে তাদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। এসময় একক সংগীত ও ঘাটু গান পরিবেশন করা হয় এবং অনুষ্ঠিত হয় বারোয়ারি বিতর্ক। দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পুকুরে ‘হাঁস শিকার’ প্রতিযোগিতা, যেখানে বিজয়ী হন সাগর চন্দ্র রায়।
 
মধ্যাহ্নে ‘অলিখিত প্রেমের দিনলিপি’ কাব্যনাট্য ও ‘জানা-অজানা হুমায়ূন’ কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় ‘হুমায়ূনপুর’ নাটিকা ও সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে মেলার সমাপ্তি ঘটে।
 
দিনব্যাপী এ মেলাকে ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ দর্শনার্থীদের মধ্যে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। দূর-দূরান্ত থেকে আগত মানুষও এই আয়োজনের আনন্দে অংশ নেন।



  বিষয়:   জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়  অভিনেতা ডা. এজাজুল ইসলাম 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: