মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতায় একদিকে যেমন সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক তৎপরতার আভাসও মিলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে- সংঘাত ও সংলাপ, দুই পথই এখন খোলা রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান নতুন করে সমঝোতায় আগ্রহী হলেও তিনি প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন। তার ভাষায়, ‘ইরান চুক্তি করতে চায়, কিন্তু সেটি আমার প্রত্যাশা পূরণ করছে না।’ একই সঙ্গে পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরান নতুন আলোচনার বার্তা পাঠিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ভিন্ন সুরে কূটনীতির দরজা খোলা রাখার কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ‘হুমকি ও চাপের নীতি’ থেকে সরে আসে, তবে তেহরান আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে একই সঙ্গে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার কথাও জানান তিনি।
সংকট নিরসনে ইরান একাধিক আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করেছে। তুরস্ক, কাতার, সৌদি আরব, মিসর, ইরাক ও আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন আরাগচি। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কলসের সঙ্গেও তার কথা হয়েছে।
এই আলোচনাগুলোতে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়টি।
ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আলি নিকজাদ হরমুজ প্রণালিকে দেশের ‘অধিকারভুক্ত’ বলে দাবি করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের বর্তমান নিয়ন্ত্রণ থেকে সরে আসার কোনো পরিকল্পনা নেই তেহরানের। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।
আরও পড়ুন
যুদ্ধের অর্থনৈতিক ব্যয় নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। আরাগচি অভিযোগ করেছেন, প্রকৃত ব্যয় গোপন করছে পেন্টাগন এবং এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। একইসঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের ‘আত্মরক্ষা’ দাবি নাকচ করে এটিকে ‘আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে তেহরান।
এদিকে ওয়াশিংটনে সামরিক বিকল্পও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায় থেকে ইরানে সম্ভাব্য নতুন হামলার পরিকল্পনা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ‘সংক্ষিপ্ত কিন্তু শক্তিশালী’ আঘাতের কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে, যেখানে আধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের কথাও ভাবা হচ্ছে।
ইসরায়েল ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ মার্কিন অস্ত্র সহায়তা পেয়েছে এবং দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে।
অন্যদিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হ্যালো নাওফা নিজ দেশের ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার করেছেন, যা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বে তেল ও গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইতোমধ্যে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও পরিস্থিতি এখনও অস্থির।
এএডি/