দীর্ঘদিনের ওষুধ সংকটে ধুঁকে ধুঁকে চলছে মেহেরপুরের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো। চিকিৎসা নিতে আসা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এসকল চিকিৎসাকেন্দ্র। প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকায় কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে রোগীদের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মেহেরপুর জেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে বন্ধ রয়েছে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ। ফলে প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চিকিৎসার আশায় ক্লিনিকে এসে অনেক রোগীকেই খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুরে মোট ২০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ৭১টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। দ্রুত ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে অন্তত ২৭ ধরনের প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ থাকার কথা। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ ক্লিনিকেই এখন সীমিত আকারে শুধু প্যারাসিটামল, ভিটামিন ও গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। আবার কোনো কোনো কমিউনিটি ক্লিনিকে সেটুকুও নেই। ফলে রোগীরা সেবা নিতে এসে শুধু পরামর্শ নিয়েই বাড়ি ফিরছেন। আগে ক্লিনিকগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যেত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহ বন্ধ থাকায় এখন তাদের ভোগান্তি বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হচ্ছে, যা সময় ও খরচ-দুই দিক থেকেই কষ্টকর। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল কিংবা সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে রোগীর চাপও বাড়ছে এসব হাসপাতালে।
মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা খাইরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল অনেক দূরে তাই যাওয়া কষ্টকর। কিন্তু অনেক দিন হলো এই ক্লিনিকে এসে ঠিকমতো ওষুধ পাই না। সরকারি ওষুধে ভালো কাজ হয় তাই আমাদের জন্য ওষুধের ব্যবস্থা করেন। একই কথা বললেন চাঁদবিল গ্রামের খোদেজা খাতুন, রাজনগর গ্রামের মাসুদ রানাসহ অনেকেই।
ধানখোলা কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মী (সিএইসসিপি) শামসুন্নাহার বলেন, আগে অনেক ওষুধ সরবরাহ থাকতো। এখন ওষুধ সরবরাহ না থাকায় রোগীদের অসন্তোষের মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেক সময় রোগী ও তাদের স্বজনরা বিরূপ আচরণ করছেন, এমনকি বাইরে ওষুধ বিক্রির অভিযোগও তোলা হচ্ছে। তবে সব প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা সেবা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মাসুদুর রহমান জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তারা ওষুধ সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছেন এবং সরবরাহ পাওয়া মাত্রই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে বিতরণ করা হবে।