বরিশালের বানারীপাড়ায় ইলুহারে চাঁদাবাজি, মারধর ও হত্যাচেষ্টা মামলায় দুই সহযোগীসহ এক বিএনপি নেতাকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। শনিবার (২ মে) সকালে তাদের বরিশালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এর আগে শুক্রবার (১ মে) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নের ইলুহার গ্রামে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতাররা হলেন, উপজেলার ইলুহার ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সিরাজুল হক রাজু, তার সহযোগী মো. ইকরামুল সিকদার ও মো. এনামুল সিকদার।
ওই গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী মুজাহিদুল হক মুরাদ সিকদার বাদী হয়ে গ্রেফতার তিনজনসহ ৭ জনকে আসামি করে শুক্রবার রাতে বানারীপাড়া থানায় চাঁদাবাজি, টাকা ও চেক ছিনতাই, মারধর এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেন।
অন্য আসামিরা হলেন মো. ইমরান সিকদার, মো. মাইনুল সিকদার, আইউব আলী ওরফে আজিজার এবং বাবু।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, আসামিরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে বিভিন্ন সময় দলীয় প্রোগ্রামের কথা বলে মামলার বাদি কাঠ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল হক মুরাদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা নেয়। সম্প্রতি মুরাদ সিকদার ইলুহার ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ইলুহার গ্রামে ইউপি সদস্য নির্বাচন করার ঘোষণা দিলে আসামিরা তাকে বিজয়ী করে দেবে মর্মে তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। অন্যথায় তারা তাকে নির্বাচনি মাঠে নামতে দেবে না বলে হুমকি দেয়।
তিনি তাদের চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২৮ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে এলাকার সিদ্দিক মোল্লার চায়ের দোকানে পেয়ে মুজাহিদুল হক মুরাদ সিকদারকে হত্যার উদ্দেশ্যে বেদম মারধর ও হাতুড়িপেটা করে গুরুতর আহত করে। এ সময় ছেলেকে রক্ষা করতে মুরাদের বাবা মোক্তার সিকদার গেলে তাকেও বেদম মারধর করা হয়। তখন মুরাদের সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ওই ব্যাগে তার কাঠ ব্যবসার ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মদিনা ট্রেডার্সের নামে ব্যাক ব্যাংকের চেক ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। আহত অবস্থায় বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে স্বজন ও স্থানীয়রা বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করেন।
বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজি ও মারধর মামলার তিন আসামিকে গ্রেফতার করে বরিশালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই