চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় গার্ডের দোকান থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত সংযোগ সড়কের পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ ও ধীরগতির অভিযোগে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমন অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়কটির কাজ আগামী জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত অগ্রগতি ১০ শতাংশও হয়নি। প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে এ এস বি লিমিটেড ও ফামানটেক কর্পোরেশন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই নিম্নমানের ইটের খোয়া, সুরকি ও বালু ব্যবহার করা হচ্ছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করে নিম্নমানের উপকরণ অপসারণের নির্দেশ দেয়।
তবে ওই নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিম্নমানের খোয়া সরানো ছাড়াই পুনরায় কাজ শুরুর চেষ্টা করা হলে এলাকাবাসী আবারও বাধা দেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ অবস্থায় প্রকল্প কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভূজপুর থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, গত ২২ ও ২৯ এপ্রিল কয়েকজন ব্যক্তি ৬ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং তা না পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। এ ঘটনায় ছাত্রদল নেতা শরীফসহ চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কাজের তত্ত্বাবধায়ক রাশেদ দাবি করেন, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি টেন্ডার না পেয়ে শুরু থেকেই কাজে বাধা সৃষ্টি করে আসছিলেন এবং চাঁদা দাবি করছিলেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তাদের পরামর্শেই থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফামানটেক কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. আরিফ বলেন, ইটভাটা থেকে নিম্নমানের খোয়া সরবরাহ করা হয়েছিল, যা পরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরপরও একটি পক্ষ চাঁদা দাবি অব্যাহত রাখায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে জানান, সড়কটি নিয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে চাঁদাবাজির অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। কাজের মান সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরী বলেন, কাজের মান নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর প্রকল্পের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিম্নমানের উপকরণ অপসারণ করে পুনরায় কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।