মেঘনা নদীর ভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর পর বহু কষ্টে গড়ে তোলা শেষ আশ্রয়টুকুও কালবৈশাখীর তীব্র বাতাসে হারালেন সুবর্ণচরের কৃষক মো. জসিম উদ্দিন। বর্তমানে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। দিন-রাত কাটাচ্ছেন খোলা আকাশের নীচে।
জানা গেছে, নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন এক সময় নদীভাঙনে সব হারিয়ে অন্যের জমিতে আশ্রয় নেন। পরে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কারণে সেখান থেকেও সরে যেতে বাধ্য হন। সবশেষে বেড়িবাঁধের পাশে খাস জমিতে টিন ও বাঁশ দিয়ে একটি ছোট ঘর নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যার সময় বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে মুহূর্তেই গুঁড়িয়ে যায় তার সেই ঘর। বাতাসে পুরো ঘর তছনছ হয়ে যায়। পড়ে আছে ভাঙা টিন, ছিন্ন বাঁশ। যেন এক ধ্বংসস্তূপ।
ঘটনার চার দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাননি জসিম। বর্তমানে পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পরিবার নিয়ে ।
জসিম উদ্দিনের স্ত্রী অজিবা খাতুন বলেন, এক সময় আমার স্বামীর নিজের ভিটা ছিলো। কিন্তু মেঘনা তা কেড়ে নিয়েছে। এখন আমাদের থাকার মতো কোন জায়গা নেই। বেড়ী বাঁধের পাশে খাস জমিতে ছোট একটি ঘর তুলে কোন রকম জীবন পার করছি। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সেটিও শেষ হয়ে যায়। তীব্র বাতাসে মুহুর্তেই ঘরটি তছনছ হয়ে যায়। এখন মেয়েদেরকে নিয়ে রাতে ঘুমাতে পারি না। বসে বসেই রাত কাটাতে হয়।
জসিম উদ্দিন বলেন, নদী আমাদের ভিটেমাটি নিয়েছে, বাঁধের সময় আশ্রয় হারিয়েছি। শেষ এই ছোট ঘরটাই ভরসা ছিল। কালবৈশাখী সেটাও কেড়ে নিল। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাব বুঝতে পারছি না? বিশেষ করে মেয়েদেরকে নিয়ে ভীষণ চিন্তায় আছি। এখনো কেউ খবর নিতে আসেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা নুর ইসলাম জানান, উপকূলীয় এলাকায় এ ধরনের অনেক পরিবারই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছে। তবে ধারাবাহিক দুর্যোগে তাদের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তায়। ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য দ্রুত একটি নিরাপদ একটি স্থায়ী আশ্রয় সময়ের দাবী।
সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান বলেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। খোঁজ নিয়ে তাদের সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।