সৌদি আরব সরকার ২০২৬ সালের হজের জন্য যাত্রীদের সর্বনিম্ন বয়সসীমা ১৫ বছর নির্ধারণ করেছে। শনিবার (২ মে) রিয়াদের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানানো হয়েছে, বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে আগত হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে।
বিশেষ করে আগামী ২৭ মে (৯ জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি) অনুযায়ী যাদের বয়স ১৫ বছরের কম, তারা এবার পবিত্র হজে অংশ নিতে পারবেন না। সৌদি আরবের এই নতুন নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশ তাদের নাগরিকদের এই আইন মেনে চলার জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। আগামী ৩ মে সোমবার রাত ১২টা থেকেই এই বিধিনিষেধ সব ধরনের ফ্লাইটের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে যেসব শিশু বা কিশোরের বয়স ১৫ বছরের নিচে, তাদের হজের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটি (পিএএ) এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোনোভাবেই ১৫ বছরের কম বয়সী কোনো যাত্রীকে হজের ফ্লাইটে উঠতে দেওয়া হবে না। তবে যেসব হজযাত্রী এই নতুন বয়সের নিয়মের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বা যাদের দলের সদস্যরা ভ্রমণ করতে পারবেন না, তারা চাইলে তাদের হজ যাত্রা বাতিল করতে পারেন।
সৌদি সরকার আশ্বাস দিয়েছে, এই বিশেষ পরিস্থিতির কারণে যারা যাত্রা বাতিল করবেন, তারা তাদের জমা দেওয়া অর্থের সম্পূর্ণ অংশ কোনো কর্তন ছাড়াই ফেরত পাবেন।
মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সকল হজ অধিদফতর, বিমান সংস্থা এবং অনুমোদিত হজ অর্গানাইজারদের এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বছর ‘রুট টু মক্কা’ উদ্যোগের অধীনে প্রথম হজ ফ্লাইটটি গত ১৯ এপ্রিল যাত্রা শুরু করেছিল।
এই প্রকল্পের আওতায় এবার করাচি ও ইসলামাবাদের পাশাপাশি লাহোর বিমানবন্দরকেও যুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে ৯৫ হাজারেরও বেশি হজযাত্রী সরাসরি সেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৪২ হাজার ৩৪২ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন এবং নিয়মিত ফ্লাইটে আরও যাত্রী যাওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে নতুন এই বয়সসীমা জারির ফলে অনেক পরিবারের হজের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে।
পবিত্র হজের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সৌদি কর্তৃপক্ষ এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২৭ মে ২০২৬ তারিখের পর যাদের বয়স ১৫ পূর্ণ হবে না, তারা এবারের হজের জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবেন। এর ফলে বিভিন্ন দেশের হজ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো এখন তাদের তালিকায় থাকা কম বয়সী হজযাত্রীদের শনাক্ত করে রিফান্ড বা অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সৌদি আরবের এই হঠাৎ সিদ্ধান্তে কিছু পরিবার বিড়ম্বনায় পড়লেও পূর্ণ অর্থ ফেরতের নিশ্চয়তা হজযাত্রীদের জন্য বড় একটি স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: দ্য ডন
সময়ের আলো/টিএইচ