ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অব্যাহত হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের সর্বশেষ দৈনিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি বাহিনীর এই নৃশংস অভিযানে এ পর্যন্ত নিহতের মোট সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৭২ হাজার ৬০৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
একই সময়ে দেশটিতে আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৭২ হাজার ৪৪৫ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৪ জন নিহত এবং ২৬ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়। এছাড়া পূর্ববর্তী বিভিন্ন হামলায় নিহত হওয়া আরও তিনজনের মরদেহ ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে একটি তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরেও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা থামেনি। বরং চুক্তি পরবর্তী এই সময়ে এখন পর্যন্ত ৮২৮ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২ হাজার ৩৪২ জন আহত হয়েছেন।
এই পরিসংখ্যানটি মূলত যুদ্ধবিরতি পরবর্তী সময়েও গাজায় বিরাজমান চরম অস্থিরতা এবং চুক্তির বারবার লঙ্ঘনের বিষয়টিকেই সামনে নিয়ে এসেছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, গাজার প্রতিটি এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এই কর্মকাণ্ড মানবিক বিপর্যয়কে এক ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যেখানে শিশু ও নারীসহ সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধের জন্য বারবার দাবি উঠলেও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করেছে যে, গাজার হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের অভাবে আহতদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
বিশেষ করে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক মানুষের মরদেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যাদের উদ্ধার করা সম্ভব হলে নিহতের এই সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বাড়তে পারে। গাজার সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা সীমিত সামর্থ্য নিয়ে এখনো নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করে যাচ্ছেন।
গাজার এই পরিস্থিতিকে বিশ্বজুড়ে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা কঠোর সমালোচনা করছে। ইসরায়েলি হামলায় বসতবাড়ি, স্কুল এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় লাখ লাখ মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি হওয়ায় গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে। এই অবস্থায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ ও একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ছাড়া সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
সময়ের আলো/টিএইচ