নোয়াখালীর হাতিয়ায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারের পাশে দ্রুত সময়ের মধ্যে ছুটে গেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল। ঝড়ের মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন এবং তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করেন।
শনিবার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার চরইশ্বর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাজির বাজার সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল প্রায় ৪টার দিকে হঠাৎ তীব্র কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। ঝড়ের তাণ্ডবে বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী ফরানি বেগম ও রিনা বেগমের বসতঘর সম্পূর্ণভাবে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এতে পরিবার দুটি গৃহহীন হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ে।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউএনও রাসেল ইকবাল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে টিন, শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
ক্ষতিগ্রস্ত রিনা বেগম বলেন, হঠাৎ ঝড়ে ঘরের চালসহ সব আসবাবপত্র উড়ে যায়। সন্তানদের নিয়ে খাটের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলাম। ঝড় শেষে কিছু মালামাল উদ্ধার করি। এর মধ্যেই ইউএনও স্যার নগদ টাকা, চাল-ডালসহ শুকনা খাবার নিয়ে এসে পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি যে টিন দিয়েছেন, তা দিয়ে অন্তত আজ রাতটা কোনোভাবে কাটাতে পারবো।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সহিদ বলেন, হঠাৎ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তরা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসনের উপস্থিতি ও সহায়তা পেয়ে তারা স্বস্তি পেয়েছেন। দুর্যোগ মুহূর্তে প্রশাসনের এমন তৎপরতা সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়ায়।
ইউএনও রাসেল ইকবাল বলেন, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য টিন, শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ সহায়তা নিজে গিয়ে পৌঁছে দিয়েছি। তারা যেন নিজেদেরকে অসহায় মনে না করেন, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের দায়িত্ব। অনেক সময় সঠিক সময়ে তথ্য না পাওয়ায় কেউ কেউ সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন। ভবিষ্যতে যাতে সবাই পূর্ণ সহায়তা পান, সে বিষয়ে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।