ইউরোপীয় বন্ধুদেশ থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় মিত্রদেশ ইতালি ও স্পেনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই

2026-05-03T02:36:52+00:00
2026-05-03T02:36:52+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইউরোপীয় বন্ধুদেশ থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ৩ মে, ২০২৬, ২:৩৬ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় মিত্রদেশ ইতালি ও স্পেনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই দেশগুলো থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তিনি ‘সক্রিয়ভাবে’ বিবেচনা করছেন। খবর এপি, গার্ডিয়ান ও রয়টার্সের।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যখন ইতালি ও স্পেন থেকে সেনা সরানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়, তিনি সরাসরি উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ, সম্ভবত আমি সেটা করব।’ 

কিন্তু কেন তিনি এটা করতে চান? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার এমন কঠোর অবস্থানের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘কেন সরিয়ে নেব না? ইতালি আমাদের কোনো সাহায্য করেনি এবং স্পেনের ভূমিকা ছিল ভয়াবহ, অত্যন্ত ভয়াবহ।’

ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান যুদ্ধের সময় ন্যাটো মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ায়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা ইউক্রেনের ক্ষেত্রে তাদের সাহায্য করেছি, কিন্তু যখন আমাদের প্রয়োজন ছিল, তখন তারা পাশে ছিল না। বিষয়টি আমাদের মনে রাখতে হবে।’ 

মার্কিন ডিফেন্স ম্যানপাওয়ার ডেটা সেন্টারের (ডিএমডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ইতালিতে ১২ হাজার ৬৬২ জন এবং স্পেনে ৩ হাজার ৮১৪ মার্কিন সেনা সক্রিয়ভাবে মোতায়েন ছিল। স্পেনের পক্ষ থেকে এই হুমকির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও ইতালি এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। 

দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেতো বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তের কারণ আমার কাছে বোধগম্য নয়। এটা সবার কাছে পরিষ্কার যে আমরা হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করিনি, বরং আমরা সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুরক্ষায় একটি মিশন পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছিলাম, মার্কিন সামরিক বাহিনী এর প্রশংসাও করেছিল।’

অন্যদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুরু থেকেই এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তিনি ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলাকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে স্পেনের যৌথ সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেননি এবং মার্কিন বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছেন। এসব কারণে ট্রাম্প শুরু থেকেই স্পেনের প্রতি অসন্তুষ্ট এবং মার্চ মাসের শুরুতে তিনি স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করারও হুমকি দিয়েছিলেন।

ইতালি ও স্পেনের পাশাপাশি জার্মানির সঙ্গেও ট্রাম্পের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। ইরানের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অপদস্থ’ করেছে বলে মন্তব্য করায় জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্ৎসের ওপর ক্ষিপ্ত ট্রাম্প সেখান থেকেও ৫ হাজার সেনা সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

পাশাপাশি পোপ লিও যখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের ডাক দেন, তখন ট্রাম্প পোপকে ‘দুর্বল’ ও ‘পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেন। এর প্রতিবাদে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, ‘পোপ সম্পর্কে ট্রাম্পের এ ধরনের বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য। পোপ ক্যাথলিক চার্চের প্রধান এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো তার জন্য স্বাভাবিক ও সঠিক কাজ।’

এর জবাবে ট্রাম্প ইতালীয় সংবাদপত্র কোরিয়েরা ডেলা সেরাকে বলেন, ‘মেলোনি নিজেই অগ্রহণযোগ্য। কারণ তার কাছে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়টি কোনো গুরুত্বই রাখে না।’ ইতালি একটি ক্যাথলিক দেশ। যদিও রাষ্ট্রটি সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ, তবু জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ নিজেদের ক্যাথলিক হিসেবে পরিচয় দেয়।

সময়ের আলো/আআ




  বিষয়:   ইউরোপ  দেশ  সেনা  ট্রাম্প 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: