গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নয়নপুর-বরমী আঞ্চলিক সড়কের সংস্কারকাজ মাঝপথে ফেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উধাও হয়ে যাওয়ায় প্রায় দুই বছর ধরে স্থবির হয়ে আছে উন্নয়ন কার্যক্রম। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ।
প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে। ঠিকাদারের অবহেলা, কর্তৃপক্ষের দুর্বল তদারকি এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রকল্পটি এখন দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার প্রতীকে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সিএনজিচালক জালাল উদ্দীন বলেন, আগে রাস্তাটি ভাঙাচোরা থাকলেও কষ্ট করে চলাচল করা যেত। এখন সড়কের প্রবেশমুখ দেখলে মনে হয় ছোট একটি নদী। কোনোভাবেই চলাচল করা সম্ভব নয়। প্রতিনিয়ত অপরিচিত চালকরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাম্মি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জিয়াউর রহমান বলেন, কিছু সমস্যার কারণে কাজ বন্ধ ছিল। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে। দুই-এক দিনের মধ্যে আবার কাজ শুরু করব।
শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ বলেন, ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে গেছে। তাকে বারবার তলব করা হলেও কোনো সাড়া দিচ্ছে না। তাই কার্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গাজীপুর জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান জানান, ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিওবি মেইনটেন্যান্স প্রকল্প-৩-এর আওতায় নয়নপুর বাজার থেকে সিসিডিবি মোড় পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের জন্য ৪ কোটি ৯ লাখ ৩৮ হাজার ৬০৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাম্মি এন্টারপ্রাইজ।
প্রকল্পের শুরুতে কিছু খননকাজ ও ইট, খোয়া ফেলার কাজ হলেও তা মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে কয়েক দফা কাজ শুরু হলেও তা স্থায়ী হয়নি। বর্তমানে পুরো প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয়দের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নয়নপুর বাজার এলাকায় সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, দেখলে মনে হয় এটি যেন একটি ছোট নদী।
নয়নপুর বাজারের ব্যবসায়ী এমদাদুল হক বলেন, সংস্কারের নামে দুই বছর ধরে রাস্তাটি অচল হয়ে আছে।
এখন সড়কটি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যও বন্ধের পথে। একটি সড়কে এত দুর্ভোগের পেছনে কর্তৃপক্ষের গাফিলতি স্পষ্ট।
সময়ের আলো/আআ