এশিয়া কাপ আরচারিতে স্বর্ণ জিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেন বাংলাদেশের হিমু বাছাড়, ঐশ্বর্য রহমান এবং নেওয়াজ আহমেদ রাকিব। গত মার্চে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওই আসরে দলগত ইভেন্টে ভিয়েতনামকে হারিয়ে এই সাফল্য ঘরে তোলেন তারা। মাসখানেকের ব্যবধানে আরও একটি বড় ইভেন্টে খেলতে যাচ্ছেন হিমু-রাকিবরা। ৫ মে থেকে চীনের সাংহাইয়ে শুরু হতে যাচ্ছে আরচারি বিশ্বকাপ স্টেজ-২। টুর্নামেন্টে খেলতে আগামীকাল চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে লাল-সবুজের দল। এশিয়া কাপে সাফল্য পাওয়া হিমু, ঐশ্বর্য, রাকিবরা তো থাকছেনই, সেই সঙ্গে গত বছরের নভেম্বরে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এশিয়ান আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপে পদক জেতা বন্যাও থাকছেন।
রিকার্ভ-কম্পাউন্ড (পুরুষ-নারী ব্যক্তিগত) দলগত ও মিশ্র- সব মিলিয়ে ১০ ইভেন্টে মোট ১৩ জন আরচার যাচ্ছেন চীনে। কোচ, কর্মকর্তা মিলে সংখ্যাটা ২০-এর কাছাকাছি। আরচারির নিয়মিত পৃষ্ঠপোষক সিটি গ্রুপ তো আছে, সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও এই সফরে আরচারদের সহায়তা করছে। গতকাল বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্যই জানান আরচারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ আলো। এ সময় ফেডারেশনের সভাপতি ড. মো. মোখলেস উর রহমান, ওয়ার্ল্ড আরচারি এশিয়ার সভাপতি কাজী রাজিব উদ্দিন আহমেদ চপল, পৃষ্ঠপোষক সিটি গ্রুপের কর্মকর্তাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
চীনে যাওয়ার আগে অর্থ পুরস্কারে ভূষিত হন হিমু, ঐশ্বর্য, রাকিব। গত মার্চে এশিয়া কাপের কম্পাউন্ডে স্বর্ণ জেতায় তাদের পুরস্কৃত করেন কাজী রাজিব উদ্দিন চপল। তিনজনের প্রত্যেককে ৪শ ডলার অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়, সঙ্গে কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক (প্রধান কোচ) এবং দুই সহকারী কোচ নূরে আলম ও ইমদাদুল হক মিলনকে দেওয়া হয় ২শ ডলার করে। এই পুরস্কার চীনে যাওয়ার আগে তাদের বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে বিশ্বাস ফেডারেশনের। একই কথা বলেন অর্থ পুরস্কার পাওয়া খেলোয়াড়রাও। সময়ের আলোকে এ ব্যাপারে হিমু বাছাড় বলেন, ‘যেকোনো পুরস্কারই বাড়তি অনুপ্রেরণা দেয়। এটা আমাদের জন্য প্রেরণা জোগাবে।’ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাওয়া আরচার বন্যা আক্তারও একই কথা বলেন।
হিমু অবশ্য প্রেরণার পাশাপাশি একটা আক্ষেপের কথাও জানান। গত বছর নভেম্বরে ঘরের মাঠে এশিয়ান আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপের মিশ্র ইভেন্টে বন্যাকে সঙ্গী করে রুপা জেতেন, একই আসরে কম্পাউন্ড এককে ব্রোঞ্জ জেতেন কুলসুম আক্তার মনি। পুরস্কার জেতার পর তখনকার ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা দেন। ৬ মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও সেই অর্থ এখনও মেলেনি। এতে হতাশ হিমু-বন্যারা। এ ব্যাপারে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের সভাপতি জানান, ‘এই বিষয়ে বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি এই বিষয়টি দেখছেন। আমাদের প্রতিশ্রুত অর্থ এই মাসের মধ্যে অনুষ্ঠান করে দেব এবং সেখানে কোচদেরও সম্মানিত করা হবে।’
অর্থের পাশাপাশি নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়েও কথা বলেন হিমুরা। বিশ্বকাপে কী প্রত্যাশা করছেন ও নিজের লক্ষ্য প্রসঙ্গে সময়ের আলোকে হিমু জানান, ‘বিশ্বকাপ অনেক বড় মঞ্চ। অনেক বড় বড় খেলোয়াড়, তারকারা এতে অংশ নেন। যাদের খেলা টিভিতে দেখে আমরা প্রতিনিয়ত শেখার চেষ্টা করি। এমন মঞ্চে খেলতে পারাই অনেক বড় ব্যাপার। তবে আমরা শুধু অংশগ্রহণের জন্য নয়, পদক জেতার জন্যও যাব।’ বন্যাও একই সুরে সুর মেলান। গত বিশ্বকাপে র্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বরে থেকে আসর শেষ করেছিলেন বন্যা। এবার নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে চান। দেশের জন্য ভালো কিছু নিয়ে আসার প্রত্যয় বন্যার কণ্ঠে।
বরাবরের মতো মার্টিন ফ্রেডরিকের অধীনে খেলতে যাবে দল। চীন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের লক্ষ্য সম্পর্কে কোচ মার্টিন বলেন, ‘সামনে এশিয়ান গেমসে আমরা মূলত সেই টুর্নামেন্টের প্রস্তুতির জন্যই যাচ্ছি। পাশাপাশি বিশ্বকাপেও ভালো ফলাফল করতে চাই।’
সময়ের আলো/আআ