হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক চলমান অস্থিরতা ও সংকটের অবসান ঘটলে সাত দিনের মধ্যে তেল উৎপাদন এবং রফতানি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন ইরাকের উপ-তেলমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মদ।
রোববার (৩ মে) এক বিবৃতিতে তিনি জানান, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সামুদ্রিক বাণিজ্যে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা নিরসন হওয়া মাত্রই ইরাক তার পূর্ণ সক্ষমতায় তেল রফতানি শুরু করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ইরানের সংশ্লিষ্টতায় চলমান যুদ্ধের ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিটি বর্তমানে প্রায় অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তেল বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
ইরাকের বর্তমান তেল উৎপাদন ও রফতানি পরিস্থিতি সম্পর্কে বাসিম মোহাম্মদ জানান, বর্তমানে দেশটিতে দৈনিক তেল উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে তুরস্কের জেইহান বন্দরের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করা হচ্ছে। তবে জলপথে বড় আকারের রপ্তানি কার্যক্রম হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর সরাসরি নির্ভরশীল।
উপ-তেলমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ইরাকের দুটি তেলের ট্যাঙ্কার বর্তমানে যাত্রা শুরুর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে আরও দুটি ট্যাঙ্কার যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় আছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিটি দীর্ঘ সময় ধরে প্রায় বন্ধ থাকায় ইরাকের মতো তেলনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলো উল্লেখযোগ্য চাপের মুখে পড়েছে। দেশটির সরকার তেল রফতানির বিকল্প পথ হিসেবে পাইপলাইনের ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করলেও সামুদ্রিক পথের কোনো পূর্ণাঙ্গ বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি।
বাসিম মোহাম্মদের এই আশাবাদ মূলত বিশ্ব বাজারে ইরাকের তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার একটি আগাম ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া মাত্রই ইরাক তার রপ্তানি আয় পুনরুদ্ধারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ইরাকের মতো বড় উৎপাদক দেশগুলোর রফতানি সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
ইরাকি উপ-তেলমন্ত্রীর মতে, সাত দিনের এই সময়সীমাটি একটি পরিকল্পিত কৌশল, যা বাস্তবায়নে কারিগরি ও প্রশাসনিক সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে এই পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পুরোপুরি নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় নৌ-চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরার ওপর, যা বর্তমানে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির ওপর ঝুলে রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
সময়ের আলো/টিএইচ