বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিদেশি জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে একটি নতুন আইন অনুমোদন করতে যাচ্ছে ইরান।
শনিবার (২ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত ১২ দফার এই পরিকল্পনার অধীনে ইসরায়েলি কোনো জাহাজকে কখনোই এই জলপথ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। এছাড়া ‘শত্রু দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত রাষ্ট্রগুলোর (যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত) জাহাজকে এই প্রণালি অতিক্রম করতে হলে আগে ‘যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ’ প্রদান করতে হবে। ইরানের সংসদের ভাইস স্পিকার আলি নিকজাদ এই পরিকল্পনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নতুন এই আইনের আওতায় অন্য সকল দেশের সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজকেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করতে হলে আগে থেকে ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি নিতে হবে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা যখন চূড়ান্ত স্থবিরতার মুখে পড়েছে, তখনই ইরান এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিল।
বর্তমানে উভয় দেশই নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের এই জলপথে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি শনিবার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-কে বলেন, ‘এখন বল আমেরিকার কোর্টে; তারা কূটনীতির পথ বেছে নেবে নাকি সংঘাতের পথ, সেই সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে।’
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর শুক্রবার তেহরান ১৪ দফার একটি সংশোধিত প্রস্তাব জমা দিয়েছে। ট্রাম্প শনিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের জানান, তিনি শীঘ্রই এই নতুন পরিকল্পনাটি পর্যালোচনা করবেন। তবে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রস্তাবটি ‘গ্রহণযোগ্য হবে বলে তিনি কল্পনাও করতে পারছেন না’।
আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’ জানিয়েছে যে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের আগের একটি প্রস্তাবের বিপরীতে এই প্রতিক্রিয়া জমা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন নেতিবাচক মনোভাবের প্রেক্ষাপটেই ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর আইনগত বিধিনিষেধ আরোপের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটি ইরান ও মার্কিন মিত্রদের মধ্যে এক প্রকার স্নায়ুযুদ্ধের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ইরান মনে করছে, সামুদ্রিক এই পথের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বড় ধরনের কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে। যদি এই ১২ দফা পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হয়, তবে তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর সুদূরপ্রসারী ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: সিএনএন
সময়ের আলো/টিএইচ