ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার নওদা ও রেজিনগর—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা আসনে বড় চমক দেখিয়ে জয় পেয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর তিনি নিজস্ব রাজনৈতিক দল আাম জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করেন এবং সেই দল থেকেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটের ফলাফলে দেখা যায়, দুই আসনেই তিনি বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন এবং রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন।
রেজিনগর আসনে হুমায়ুন কবীর পেয়েছেন ১,২৩,৫৩৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির বাপন ঘোষ পেয়েছেন ৬৪,৬৬০ ভোট, যা তাঁর থেকে অনেকটাই কম। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী আতাউর রহমান পেয়েছেন ৪১,৭১৮ ভোট এবং তিনি তৃতীয় স্থানে নেমে যান। নওদা আসনেও একই ধরনের ফল দেখা যায়। সেখানে হুমায়ুন কবীর ৮৬,৪৬৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিজেপির রানা মণ্ডল ৫৮,৫২০ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকেন, আর তৃণমূলের সাহিনা মমতাজ খান ৫১,৮৬৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে চলে যান।
এই নির্বাচনের আগে হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় তিনি বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদ নির্মাণ করবেন। এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর তিনি নিজের দল গঠন করে রাজনৈতিক ময়দানে নতুনভাবে আত্মপ্রকাশ করেন।
ভোটের আগে তার বিরুদ্ধে আরও একটি বিতর্কিত ভিডিও প্রকাশ্যে আসে, যেখানে অভিযোগ করা হয় যে তিনি দাবি করেছিলেন বিজেপি তাকে টাকা দিয়ে তৃণমূলকে পরাজিত করার চেষ্টা করছে এবং তিনি বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এই ভিডিও প্রকাশের পর রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং তার সঙ্গে থাকা অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন জোটও ভেঙে দেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই তখন মনে করেছিলেন, এসব বিতর্ক তার নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলবে।
তবে সব অনুমান উল্টে দিয়ে তিনি দুইটি আসনেই বড় ব্যবধানে জয় লাভ করেন। তার এই সাফল্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, বিশেষ করে মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিতে এর প্রভাব কী হতে পারে তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে।
এদিকে, হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদে একটি বড় প্রকল্পও ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বেলডাঙায় প্রায় ৮ একর জমির ওপর বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে, যার আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৮৬ কোটি টাকা। তার দাবি অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও ভোট শেষ হলে পুনরায় কাজ শুরু হবে।
এই প্রকল্প ঘিরেও এলাকায় মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন বহু মানুষ নির্মাণস্থল দেখতে আসছেন বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিতর্ক, ব্যক্তিগত অবস্থান এবং নতুন দলের উত্থানের মাঝেও হুমায়ুন কবীরের এই জয় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
/ইউএমএইচ