রোহিঙ্গা বসতিতে উজাড় পাহাড়

কক্সবাজার সংবাদদাতা

সারাদেশ

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে পাহাড় কেটে ইট ও লোহা দিয়ে ঘর নির্মাণের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

2026-05-05T02:37:06+00:00
2026-05-05T02:37:06+00:00
 
  শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬,
১ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
রোহিঙ্গা বসতিতে উজাড় পাহাড়
কক্সবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ২:৩৭ এএম 
সংগৃহীত ছবি
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে পাহাড় কেটে ইট ও লোহা দিয়ে ঘর নির্মাণের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা বলছেন, অস্থায়ী আশ্রয়ের জন্য গড়ে ওঠা ক্যাম্পে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ শুধু পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয় বরং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকেও প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের ৪ নম্বর এক্সটেনশন ক্যাম্পের ই-ব্লকে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তত্ত্বাবধানে ৮৮৮টি শেল্টার নির্মাণের কাজ চলছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজের জন্য পাহাড় কেটে প্রায় ১০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি আশপাশের পাহাড় কেটে সমতল করে গড়ে তোলা হচ্ছে শেল্টারগুলো। ইট ও লোহার কাঠামো ব্যবহারের কারণে এসব ঘরকে স্থায়ী আবাসন হিসেবে দেখছেন অনেকে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এতদিন বাঁশ, ত্রিপল ও টিননির্ভর অস্থায়ী ঘরই ছিল সাধারণ দৃশ্য। কিন্তু এখন সেখানে ইট-লোহার কাঠামোয় নির্মাণকাজ স্থানীয়দের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, এটি শুধু ঘর নির্মাণ নয় বরং দীর্ঘমেয়াদি বসতির ইঙ্গিত। 


এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পে কিছু শেল্টার নির্মাণের তথ্য আমরা পেয়েছি। তবে পাহাড় কাটার অভিযোগ সংস্থাটি অস্বীকার করেছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ক্যাম্প ইনচার্জকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান আরও বলেন, নির্মাণাধীন ঘরগুলো স্থায়ী নয়। ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো ঘর সরিয়ে সেখানে নতুন শেল্টার তৈরি করে একই বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব ঘর ভবিষ্যতে স্থায়ী রূপ নেবে কি না এমন প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেননি তিনি। 

এদিকে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তত্ত্বাবধানে ৮৮৮টি শেল্টার নির্মাণের কাজ চলছে বলে তথ্য পাওয়া গেলেও সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) জনসংযোগ কর্মকর্তা মোশারফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হচ্ছে না। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান করা হবে বলেও মন্তব্য করেন জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) জনসংযোগ কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন। 

সরেজমিন কথা হয় উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের ৪ নম্বর এক্সটেনশন ক্যাম্পের ই-ব্লকের বাসিন্দাদের সঙ্গে। এ সময় তারা জানান, দিন-রাত চলমান রয়েছে এই নির্মাণকাজ। সবার চোখের সামনেই কেটে উজাড় করা হচ্ছে পাহাড়। প্রকাশ্যে পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সবার মধ্যে সন্দেহ এবং অসন্তোষ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। 

এ বিষয়ে তথ্য নেওয়ার জন্য কথা হয় পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে। আলাপকালে এই জনপ্রতিনিধি বলেন, যে ধরনের কাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে, তা স্থায়ী ঘরের মতো। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের এখানে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের পথ তৈরি করা হচ্ছে। এতে প্রত্যাবাসন আরও জটিল হয়ে পড়বে। অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা হলে বর্ষায় ভূমিধসসহ বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী। 

জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবদুল মান্নান বলেন, শুরুতে রোহিঙ্গাদের অস্থায়ীভাবে সীমান্তঘেঁষা এলাকায় রাখার পরিকল্পনা থাকলেও পরবর্তী সময়ে তাদের পাহাড়ি এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। এখন সেখানে স্থায়ী ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নির্মাণকাজ বন্ধ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও প্রদান করেন তিনি। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ আট বছরেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যত শুরু না হওয়ায় অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে। মিয়ানমারের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং রাখাইনের সংঘাত পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে।

এমন বাস্তবতায় ক্যাম্পে ইট-লোহার কাঠামো নির্মাণ স্থানীয়দের কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান ও সহিংসতার মুখে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। বর্তমানে কক্সবাজার, উখিয়া ও ভাসানচরের ৩৪টি ক্যাম্পে প্রায় ১৪ লাখ রোহিঙ্গার অবস্থান রয়েছে।
  বিষয়:   কক্সবাজার  উখিয়া  রোহিঙ্গা  শরণার্থী  ক্যাম্প  পাহাড় 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: