কৃষকের বুকেও বইছে কালবৈশাখী ঝড়

জাকির হোসেন দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি)

সারাদেশ

তিন দিনের কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে যা কৃষকের জন্য একটি ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন হয়ে

2026-05-05T02:47:03+00:00
2026-05-05T02:47:03+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
কৃষকের বুকেও বইছে কালবৈশাখী ঝড়
জাকির হোসেন দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি)
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ২:৪৭ এএম 
সংগৃহীত ছবি
তিন দিনের কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে যা কৃষকের জন্য একটি ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় বোরো ধান, আম, কলা, গ্রীষ্মকালীন সবজিসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আর এতে চরম বিপাকে পড়েছে উপজেলার প্রান্তিক কৃষকরা। কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের মনেও এখন নীরবে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যাচ্ছে। 

সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, যে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ সোনালি ধানে ভরপুর ছিল, সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কালবৈশাখীর তীব্রগতির ঝড়োহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে বিস্তীর্ণ সেই সোনালি ফসলের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও হেলে পড়ে মাটিতে মিশে আছে। আবার কোথাও ধান পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। বুকসমান পানিতে দাঁড়িয়ে স্বপ্নের ফসল তোলার চেষ্টা করছেন চাষিরা। আম ও কলা পরিপক্ব হওয়ার আগেই গাছের গোড়া থেকে উপড়ে পড়েছে। গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির ক্ষেত পানি জমে নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষকদের হাহাকারে ভারী হয়ে উঠছে আকাশ-বাতাস।

দীঘিনালা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে দীঘিনালার প্রায় সাড়ে ১২ হেক্টর বোরো ধানের জমি, ৮ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি জমি, ১৫৭ হেক্টর আমের বাগান, ১৬৮ হেক্টর কলাবাগান ও অন্যান্য ৫ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বোরো ধান ও গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষতির পরিমাণ এখনও টাকার অঙ্কে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিক হিসাবে আমের প্রায় ৯৪ লাখ ২০ হাজার টাকা, কলায় ৮৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকা এবং অন্যান্য ফসলে প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার সম্ভাব্য ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। বোরো ধান ও গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষতির টাকার অঙ্ক নির্ধারণ করা সম্ভব হলে কালবৈশাখী ঝড়ে দীঘিনালায় ক্ষতির পরিমাণ ২ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।  

দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে দীঘিনালায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের খোঁজখবর রাখছি। চলমান দুর্যোগ অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। 

দীঘিনালা ইউনিয়নের কলা চাষি শান্তিপ্রিয় চাকমা বলেন, আমি ঋণ করে ৩ একর জমিতে কলা চাষ করেছিলাম। কিন্তু কালবৈশাখী ঝড়ে আমার বাগানের অপরিপক্ব কলাগুলো নষ্ট হয়ে গেছে এবং সব গাছ ভেঙে পড়েছে। আমি অসহায় হয়ে পড়েছি।

বোয়ালখালী ইউনিয়নের প্রিয়দর্শী চাকমা বলেন, আমি ঋণ নিয়ে ৭ একর জমিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের আমের বাগান করেছি। কালবৈশাখী ঝড়ে ১০০-১৫০টি গাছ গোড়া থেকে উঠে গেছে। আর ৩ ভাগের ২ ভাগ আমই ঝড়ে পড়েছে। 
মধ্যবোয়ালখালী এলাকার ধানচাষি মো. আবু তালেব জানান, তার তিন কানি জমির কেটে রাখা ধান পানিতে ডুবে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে মোটা অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।


  বিষয়:   খাগড়াছড়ি  দীঘিনালা  কালবৈশাখী ঝড় 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: