রাজধানীর মোহাম্মদপুরে পুলিশের হেফাজত থেকে এক শীর্ষ মাদক কারবারিকে ‘মব’ তৈরি করে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। ওই এলাকায় একই দিনে এক দোকান কর্মচারীকে কুপিয়ে তার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত ১২টার দিকে মোহাম্মদপুর থানার বিজলি মহল্লা এলাকায় পুলিশের একটি চেকপোস্টে হামলা চালিয়ে আটক এক মাদক কারবারিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় পুলিশের কাজে সহযোগিতা করতে গিয়ে এক স্থানীয় যুবক আহত হন। পাশাপাশি দায়িত্বরত এসআই সাইফুল হাসান খান ও তার টিমের সদস্যদের হেনস্থা করা হয়।
পুলিশ জানায়, ওই সময় এসআই সাইফুল হাসানের নেতৃত্বে একটি দল চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিল। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে তিন যুবক সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিল। থামানো হলে তাদের একজন মোবাইল ফোনে বিষয়টি জেনেভা ক্যাম্পে জানিয়ে দেয়। পরে সেখান থেকে ৫০-৬০ জনের একটি দল এসে হামলা চালিয়ে আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হামলার সময় পুলিশের পক্ষ নিয়ে কথা বলায় কয়েকজন বাসিন্দার ওপরও হামলা করা হয়। ছিনিয়ে নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক কারবারি রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করতে পারেননি। মোহাম্মদপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, ‘পিচ্চি রাজা’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তির আসল নাম বাদশা। সে বর্তমানে জেনেভা ক্যাম্পের মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণকারী তিনজনের একজন। তার বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা, বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলাসহ অন্তত ১২টি মামলা রয়েছে।
জেনেভা ক্যাম্পের একটি সূত্র জানিয়েছে, একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি তিনি মালয়েশিয়া সফর করে দেশে ফিরেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরেই ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।
ঘটনা সম্পর্কে এসআই সাইফুল হাসান বলেন, আমরা জহুরি মহল্লা এলাকায় চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলাম। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে তিনজনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে আটক করা হয়। পরে জেনেভা ক্যাম্প থেকে একদল লোক এসে আমাদের হেনস্থার চেষ্টা করে। স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আটক তিনজনের মধ্যে একজন শীর্ষ মাদক কারবারি ‘পিচ্চি রাজা’ ছিল বলে পরে আমরা জানতে পারি। তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে। অন্যদিকে সোমবার সকালে চন্দ্রিমা হাউসিং এলাকায় হৃদয় নামে এক দোকান কর্মচারীকে কুপিয়ে দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।
জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অ্যাভিনিউ-২ এলাকার আয়েশা টেলিকমের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত হৃদয় জানান, দোকান খোলার উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে একটি চায়ের দোকানে বসেন। এ সময় একটি অটোরিকশায় দুই ব্যক্তি এসে তার পাশে বসে কথোপকথন শুরু করে। একপর্যায়ে চাপাতি দেখিয়ে তার কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
তিনি বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তার বাঁ-হাতে চাপাতি দিয়ে আঘাত করে ব্যাগে থাকা দুই লাখ টাকা এবং তিনটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঢাকা উদ্যান এলাকার শীর্ষ ছিনতাইকারী আকাশ ও আরজুকে শনাক্ত করা হয়েছে। অটোরিকশাচালকের মুখে মাস্ক থাকায় তাকে শনাক্ত করা যায়নি।
সম্প্রতি কারাগার থেকে বের হয়ে আকাশ আবার ছিনতাইয়ে জড়িয়েছে বলেও জানা গেছে।
তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত এডিসি মো. জুয়েল রানা বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে। জড়িত কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।