বজ্র ও মেঘ এক আসমানি বার্তা

সৈয়দ আবুল হাসনাত জিসান

ইসলাম

প্রকৃতির দৃশ্যপটে হঠাৎ যখন বিদ্যুৎ চমকে ওঠে, মানুষের মনে একসঙ্গে ভয় ও বিস্ময় জাগায়। কিন্তু একজন মুমিনের কাছে এটি কেবল

2026-05-05T05:10:16+00:00
2026-05-05T05:10:16+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
ইসলাম
বজ্র ও মেঘ এক আসমানি বার্তা
সৈয়দ আবুল হাসনাত জিসান
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৫:১০ এএম 
সংগৃহীত ছবি
প্রকৃতির দৃশ্যপটে হঠাৎ যখন বিদ্যুৎ চমকে ওঠে, মানুষের মনে একসঙ্গে ভয় ও বিস্ময় জাগায়। কিন্তু একজন মুমিনের কাছে এটি কেবল প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, বরং এটি আল্লাহর কুদরত ও মহিমার এক জীবন্ত নিদর্শন। পবিত্র আল কুরআনের সুরা আর-রাদের ১২ ও ১৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বজ্র ও বিদ্যুতের এই দৃশ্যের মাধ্যমে মানুষের অন্তরে ভয় ও আশার এক গভীর ভারসাম্যের শিক্ষা দিয়েছেন। 

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তিনি ভয় ও আশা সঞ্চার করার জন্য তোমাদের বিজলি দেখান এবং তিনিই ভারী মেঘমালা সৃষ্টি করেন’ (সুরা আর-রাদ : ১২)। এই আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর সুনিপুণ কার্যাবলি আমাদের জানিয়েছেন। বজ্রপাতের ভয় মানুষকে তার সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আর সেই মেঘমালা, যা বৃষ্টি নিয়ে আসে, বান্দার অন্তরে সৃষ্টি করে রবের রহমত-অনুগ্রহের প্রত্যাশা। এখানে গভীর একটি আধ্যাত্মিক শিক্ষা রয়েছে। 

একজন মুমিনের জীবনও এমন হওয়া উচিত সে আল্লাহর শাস্তিকে ভয় করবে, কিন্তু কখনো তাঁর রহমত থেকে নিরাশ হবে না। ভয় তাকে গুনাহ থেকে দূরে রাখবে, আর আশা তাকে ইবাদতের পথে অটল রাখবে। ঘন মেঘ যেমন বৃষ্টির বার্তা দেয়, তেমনি জীবনের অন্ধকার সময়েও আল্লাহর রহমতের প্রতীক্ষা করতে শিক্ষা দেয়।

আরেক আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘বজ্র তাঁর প্রশংসা সহকারে তাঁরই মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং ফেরেশতারাও তাঁর ভয়ে তসবিহ পাঠ করে। আর তিনি গর্জনকারী বজ্র পাঠান’ (সুরা আর-রাদ : ১৩)। এই আয়াতে প্রকৃতির আরেকটি বিস্ময়কর দিক উন্মোচিত হয়েছে। আমরা যে বজ্রধ্বনি শুনি তা কেবল এক ধরনের শব্দ নয়, এটি আল্লাহর প্রশংসা ও পবিত্রতা ঘোষণার এক মাধ্যম। তসবিহ কেবল মানুষের কাজ নয়, বরং সৃষ্টিজগতের প্রতিটি উপাদানই নিজস্ব ভাষায় আল্লাহর মহিমা প্রকাশ করছে। 

ফেরেশতাগণ, যাঁরা সর্বদা আল্লাহর আনুগত্যে নিবেদিত, তাঁরাও তাঁর ভয়ে তসবিহ পাঠ করে। এই অংশটি মানুষের জন্য বড় একটি শিক্ষা যাঁরা নিষ্পাপ, তাঁরাও যদি আল্লাহকে ভয় করে, তবে আমাদের জন্য সেই ভয় ও বিনয় কতটা অপরিহার্য! আয়াতের শেষাংশে বজ্রের গর্জনকে এক ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি মানুষের গাফিলতিকে ভেঙে দেয়, তাকে স্মরণ করিয়ে দেয় এই সৃষ্টিজগতের নিয়ন্ত্রক মহান আল্লাহ।

এই ধারণাটিকে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা হয়েছে সুরা বনি ইসরাইলের ৪৪ নম্বর আয়াতে। আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘সাত আসমান ও জমিনে এবং এদের মধ্যে যা কিছু আছে, সবই তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। এমন কিছু নেই, যা তাঁর প্রশংসা সহকারে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে না; কিন্তু তোমরা তাদের তসবিহ বুঝতে পারো না।’ এই আয়াত আমাদের উপলব্ধি করায় বজ্র, মেঘ, আকাশসহ পুরো সৃষ্টিজগৎ সবকিছুই এক বিশাল তসবিহর অংশ। আমরা যাকে নিছক প্রাকৃতিক শব্দ বা ঘটনা মনে করি, তা আসলে এক অবিরাম ইবাদতের ধারা, যা আমাদের দৃষ্টির আড়ালে চলমান। এই আয়াতগুলো আমাদের সামনে এক অনন্য ভারসাম্যের শিক্ষা তুলে ধরে-ভয় ও আশা, রহমত, সতর্কতা ও সান্ত্বনা। 

বজ্রপাতের প্রতিটি ঝলক যেন আমাদের অন্তরে প্রশ্ন তোলে, আমরা কি আল্লাহকে যথাযথভাবে স্মরণ করছি? প্রকৃতির এই দৃশ্যগুলো কেবল উপভোগ করার জন্য নয়, বরং এগুলো আমাদের ঈমানকে জাগ্রত করার জীবন্ত নিদর্শন। এই মহাবিশ্বের প্রতিটি কণা, প্রতিটি ধ্বনি, প্রতিটি আলো-ছায়া সবই যেন তাঁর স্রষ্টার দিকে ইঙ্গিত করে, এক অবিরাম তসবিহর ধারা হয়ে। প্রকৃতির প্রতিটি নিদর্শনই যখন আল্লাহর দিকে আহ্বান জানায়, তখন একজন মুমিনের হৃদয় জেগে ওঠে ভয় ও আশার ভারসাম্যে, রবের স্মরণে ও তাঁর মহিমার স্বীকৃতিতে।


  বিষয়:   বজ্র  মেঘ  আসমানি বার্তা  পবিত্র আল কুরআন 


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: