ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নিরঙ্কুশ জয়ের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (৪ মে) ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানী কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়গুলোতে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে এই সহিংসতা শুরু করেছে। তবে বিজেপি নেতৃত্ব এসব ঘটনার সঙ্গে তাঁদের দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছে এবং একে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও অন্যান্য স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সহিংসতার এই ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, কোচবিহার, হাওড়া ও মুর্শিদাবাদ জেলায়। কলকাতার রুবি ক্রসিং এলাকায় তৃণমূলের একটি কার্যালয়ে প্রকাশ্যে ভাঙচুর চালানোর ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকার প্রকাশ করা একটি ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, একদল লোক হাতে বিজেপির দলীয় পতাকা নিয়ে তৃণমূলের অফিসে হামলা চালাচ্ছে এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করছে। এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব দাবি করেছে, বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে তাদের আসন সংখ্যা কমে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে বিজেপি সন্ত্রাস সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় বিজেপি বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছে, সেখানে তৃণমূল কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার রাতের মধ্যেই বহু জায়গায় তাদের দলীয় সাইনবোর্ড ও পতাকায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা এই পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা এবং বিজেপির উসকানিমূলক স্লোগানকে দায়ী করেছেন।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, ২৯৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৬টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এর বিপরীতে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮১টি আসনে জয়ী হয়ে বড় ধরনের হারের সম্মুখীন হয়েছে।
খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তার আসনে পরাজিত হয়েছেন। এই ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের পর রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক সংঘাত এড়াতে তাঁরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন এবং ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
সময়ের আলো/টিএইচ