ঝালকাঠি সদর উপজেলার নথুল্লাবাদ এলাকার বিশ্বাস বাড়ি জামে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ কাজে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে মসজিদ কমিটি ও মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় এবং মুসল্লিরা জানান, দেড় শতাধিক বছরের ঐতিহ্যবাহী বিশ্বাসবাড়ি মসজিদটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিলো। সরকারি সহায়তা, মুসল্লি এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের দান-অনুদানে মসজিদটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ নিয়ে কয়েকটি শুক্রবার জুমার নামাজের আগে মুসল্লিদের সঙ্গে আলোচনাও করেন মসজিদ কমিটি। আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে মসজিদ সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সে অনুযায়ী ইট, বালু ও সিমেন্ট এনে কাজ শুরু করা হয়।
কিন্তু তাতে বাঁধ সাধে ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মানিক বিশ্বাস। তার দাবি, মসজিদের জমি নিয়ে ঝামেলা আছে, তা সমাধান না করলে কীভাবে পুনর্নির্মাণ বা কাজ করবে।
মুসল্লিদের অভিযোগ, দেড় শতাধিক বছরের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীনতম মসজিদটির নামে নির্দিষ্ট জমি ওয়াক্ফ করা আছে। আমরা সেই জমিতেই কাজ শুরু করছিলাম। তাতে এসে মানিক বিশ্বাস বাধা দেন।
মসজিদ কমিটির সভাপতি হারুন অর রশিদ বলেন, আ. রহিম উদ্দিন বিশ্বাস দেড়শত বছর আগে এক শতাংশ জমি দিয়ে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে তার ছেলে ফজলুর রহমান বিশ্বাস পাঁচ শতাংশ জমি মৌখিকভাবে মসজিদের নামে দান করে সেখানে মসজিদ নির্মাণ করেন। পরে সেটিকে দলিল মূলে ওয়াক্ফ করা হয়। মসজিদটি পুরানো হওয়ায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। তাই মুসল্লিদের সঙ্গে সভা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে পুনর্নির্মাণ উদ্যোগ নেওয়া হয়। কাজ শুরু করলেই বিএনপি নেতা পরিচয়দানকারী মানিক বিশ্বাস তাতে বাধা দেন। জমির ঝামেলা আছে, তা সমাধান না করে কীভাবে মসজিদ করে, সেখানে তাকে দাওয়াত না দেওয়ার অভিযোগে এ বাধা দেন তিনি।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল মুন্সি জানান, মানিক বিশ্বাস ইউনিয়ন বিএনপির জয়েন্ট সেক্রেটারি (যুগ্ম সম্পাদক)। মসজিদটি আমার বাড়ি থেকে অনেক দূরে। তবুও যতটুকু জানি, ওটা প্রাচীনতম এবং ঐতিহ্যবাহী। ৬ শতাংশ জমিও নাকি দান করা আছে। মানিক বিশ্বাস ওই মসজিদের নিয়মিত মুসল্লিও না। এখানে মসজিদ পুনর্নির্মিত হলে তো আর কোনো সমস্যা হবার কথা না।
মানিক বিশ্বাসের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মেহমান আছে, তাকে চা দিতেছি, পরে ফোন দেবো’, বলে লাইনটি কেটে দেন।
সময়ের আলো/জোই