রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) নিলামের টেন্ডার বাক্স পুলিশের উপস্থিতিতেই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আরডিএ ভবনে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
পরে ভবনের চারতলা থেকে বাক্সটি উদ্ধার করা হলেও দরপত্রে কাটাকাটির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে যুবদলের দুই নেতাকে শোকজ করেছে মহানগর কমিটি।
আরডিএ সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানের অপ্রয়োজনীয় মালামাল বিক্রির জন্য গত ২০ এপ্রিল চারটি গ্রুপে দরপত্র আহ্বান করা হয়। মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দরপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল। সকাল থেকেই নিলামকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের দুটি গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড (দক্ষিণ) যুবদলের আহ্বায়ক ধলুর নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী পুলিশি পাহারার তোয়াক্কা না করেই টেন্ডার বাক্সটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড (উত্তর) স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মামুন, যুবদল নেতা তৌফিক, সাগর ও আজিজুলসহ আরও কয়েকজনকে এই সময় দেখা যায়।
প্রায় ১০ মিনিট পর আরডিএ ভবনের চারতলা থেকে বাক্সটি উদ্ধার করে পুলিশ। তবে ঠিকাদার হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেছেন, বাক্সটি সরিয়ে নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল পছন্দের প্রার্থীকে কাজ পাইয়ে দেওয়া। তিনি দাবি করেন, ছিনতাইকারীরা অন্যদের দাখিল করা দরপত্রে কাটাকাটি করে পুনরায় বাক্সে ঢুকিয়ে রেখেছে। ৪৫০টি শিডিউল বিক্রি হলেও জমা পড়েছে তুলনামূলক অনেক কম দরপত্র।
আরডিএ-এর সহকারী প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামান জানান, দুপুর আড়াইটায় বাক্স খোলার পর বেশ কিছু দরপত্রে কাটাকাটির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ফলে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব দরপত্র বাতিল করা হবে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ পরে সিদ্ধান্ত নেবে।
সাংগঠনিক ব্যবস্থা
ঘটনাটি জানাজানির পর রাজশাহী মহানগর যুবদল তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড (দক্ষিণ) যুবদলের আহ্বায়ক ধলু এবং ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি ভুল বোঝাবুঝি বলা হলেও বিষয়টিকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। আরডিএ কর্তৃপক্ষ মামলা না করলে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
উল্লেখ্য, আরডিএ মার্কেটের অচল মালামাল, আরডিএ পার্কের গাছ এবং শিরোইল বাস টার্মিনালের পুরোনো বিলবোর্ডসহ প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের সামগ্রী এই নিলামের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে এ বিষয়ে আরডিএ চেয়ারম্যান বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সময়ের আলো/জোই