ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি একটি উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল নিয়ে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তার এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বেইজিংয়ে অবস্থানকালে আরাগচি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে একটি বিশেষ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ছাড়াও বর্তমান আঞ্চলিক সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক নানা অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।
আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নিবিড় কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন। বেইজিং সফরের ঠিক আগের সপ্তাহেই ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক পাকিস্তান, ওমান ও রাশিয়া সফর করেছেন।
এসব সফরে তিনি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং ইরানের ওপর আরোপিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চাপের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেছেন। চীনের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্ব থাকায় আরাগচির এই সফর বেইজিং ও তেহরানের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে বলে কূটনৈতিক মহলের ধারণা।
বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে চীনের ভূমিকা ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জ্বালানি বাণিজ্য এবং ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশ একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।
আরাগচি ও ওয়াং ই-এর মধ্যকার আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং হরমজ প্রণালীর বর্তমান অস্থিরতা বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীই এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে একপাক্ষিক নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা এবং সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়ে এসেছেন।
আব্বাস আরাগচির এই ধারাবাহিক সফরগুলো প্রমাণ করে, ইরান তার আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক বলয় তৈরি করতে চাইছে। চীনের পক্ষ থেকেও ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির ইতিবাচক সংকেত পাওয়া গেছে।
বেইজিং সফর শেষে আরাগচি তার এই কূটনৈতিক অভিযানের ফলাফল নিয়ে তেহরানে প্রতিবেদন পেশ করবেন। তার এই সফরের মধ্য দিয়ে এশীয় অঞ্চলে ইরানের প্রভাব এবং চীনের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা আরও স্পষ্ট হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সূত্র: আলজাজিরা
সময়ের আলো/টিএইচ