ইউক্রেন সরকারের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত এবং ৮০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) ইউক্রেনের ক্রামাতোরস্ক, জাপোরিঝিয়া, চেরনিহিভ, দনিপ্রো, পোলতাভা এবং খারকিভ অঞ্চলে এই হামলা চালানো হয়।
কিয়েভ যখন তাদের নিজস্ব যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং মস্কো আগামী শুক্রবার থেকে দুই দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে রেখেছিল, ঠিক তখনই এই প্রাণঘাতী আক্রমণ সংঘটিত হলো। জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের গভর্নর ইভান ফেদোরভ জানিয়েছেন, কেবল তাঁর এলাকাতেই রাশিয়ার শক্তিশালী গ্লাইড বোমার আঘাতে ১২ জন নিহত এবং এক ডজনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার এই পদক্ষেপকে ‘চরম নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, দোনেৎস্ক অঞ্চলের সর্বশেষ ইউক্রেনীয় শক্তিকেন্দ্র ক্রামাতোরস্কে রুশ হামলায় ৫ জন এবং দনিপ্রো শহরে ৪ জন নিহত হয়েছেন।
এছাড়া পোলতাভা ও খারকিভ অঞ্চলে সরকারি গ্যাস স্থাপনায় রাশিয়ার বিমান হামলায় ৩ জন কর্মী ও ২ জন উদ্ধারকর্মীসহ মোট ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি নাফতোদাজ-এর প্রধান নির্বাহী সের্হি কোরেৎস্কি জানিয়েছেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন ড্রোনের সমন্বিত এই হামলায় জ্বালানি খাতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় ৩ হাজার ৫০০ গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর তথ্যমতে, সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাশিয়া ১১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৬৪টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে ১৪৯টি ড্রোন এবং একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও বাকিগুলো দেশের ১৪টি স্থানে আঘাত হানে।
আল জাজিরার সংবাদদাতা অড্রে ম্যাকালপাইন কিয়েভ থেকে জানিয়েছেন, ইউক্রেন নিয়মিত ড্রোন মোকাবিলা করতে অভ্যস্ত হয়ে উঠলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার মতো পর্যাপ্ত সরঞ্জাম এখনো তাদের নেই। এ কারণেই জেলেনস্কি বারবার ইউরোপীয় অংশীদারদের কাছে প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেমের মতো উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছেন। জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া পোস্টে বলেন, রাশিয়া চাইলে যেকোনো মুহূর্তে যুদ্ধ থামাতে পারে, তবে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এখন প্রকৃত পদক্ষেপের প্রয়োজন।
অন্যদিকে রাশিয়ার অভ্যন্তরেও ইউক্রেনের পাল্টা ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। রাশিয়ার চুবাসিয়া প্রজাতন্ত্রে ড্রোন হামলায় ২ জন নিহত এবং অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। এছাড়া ইউক্রেন রাশিয়ার অন্যতম বড় তেল শোধনাগার কিরিশিনেফতেওর্গসিনতেজ-এ হামলা চালিয়েছে, যার ফলে লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের কিরিশি শহরে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী রাতভর ২৮৯টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে। উল্লেখ্য যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জয়ের স্মৃতি হিসেবে আগামী শুক্র ও শনিবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন, তবে বর্তমান পরিস্থিতি সেই ঘোষণার কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
সূত্র: আল জাজিরা
সময়ের আলো/টিএইচ