নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক আমানউল্লাহ সাগরকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে র্যাব। মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা থেকে র্যাব-১৪-এর একটি দল তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতার হওয়া আমানউল্লাহ সাগর উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় ‘হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসা’র প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২ নভেম্বর মাদ্রাসা ছুটির পর ভুক্তভোগী শিশুটিকে ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে ডেকে নেয় আমানউল্লাহ। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে প্রথমবার ধর্ষণ করা হয়। এরপর আরও কয়েক দফা ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। বিষয়টি কাউকে জানালে শিশুটিসহ তার মা ও ভাইকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় ওই শিক্ষক। সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন ও অসুস্থতা দেখে মা তাকে গাইনি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে ধরা পড়ে, ১১ বছরের এই শিশুটি ২০ সপ্তাহের (৫ মাস) অন্তঃসত্ত্বা। এই ঘটনায় গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা দায়ের করেন।
শিশুটিকে পরীক্ষা করা চিকিৎসক ডা. সায়মা আক্তার জানান, মাত্র ১১ বছর বয়সী এবং ৩০ কেজি ওজনের শিশুটির শরীরে রক্ত নেই বললেই চলে। পেটের বাচ্চার ওজন এখন প্রায় ৯০০ গ্রাম। এই অবস্থায় প্রসব বা অস্ত্রোপচার—উভয়ই শিশুটির জীবনের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করায় ওই নারী চিকিৎসককে বিভিন্ন মহল থেকে হুমকি ও সাইবার বুলিং করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, মামলার পর থেকেই আসামি পলাতক ছিল। এমনকি আত্মগোপনে থেকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের দাবি করে সেই মাদ্রসার শিক্ষক। তবে র্যাবের সহযোগিতায় তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহে র্যাব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের পর আসামিকে নেত্রকোনা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী শিশুটি চরম রক্তশূন্যতায় ভুগছে। তার চিকিৎসা ও প্রসব পর্যন্ত যাবতীয় খরচ সরকারের পক্ষ থেকে বহন করা হবে এবং পরিবারটিকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।
/কহু