‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হজের পবিত্র সফর মুমিন মুসলমানের পরম পাওয়া। এই মহান ইবাদতকে মহানবী (সা.)-এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে সম্পন্ন করার মাঝেই নিহিত রয়েছে প্রকৃত সফলতা। হজের ফরজ ও ওয়াজিব আমলগুলোর পাশাপাশি সুন্নত বিধানগুলোর প্রতি যত্নশীল হওয়া হাজিদের নৈতিক দায়িত্ব। সুন্নতের অনুসরণ হজের সওয়াব বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং ইবাদতকে নূরানি ও মধুময় করে তোলে।
হজ একটি দীর্ঘ ও পরিশ্রমসাধ্য ইবাদত। এর প্রতিটি পদক্ষেপে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নতের অনুসরণ করলে হজের আধ্যাত্মিকতা বৃদ্ধি পায়। হজের প্রধান ১০টি সুন্নত নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
১. তাওয়াফে কুদুম: মক্কার বাইরে থেকে আগত ইফরাদ ও কিরান হজ পালনকারীদের জন্য মক্কায় পৌঁছে সর্বপ্রথম ‘তাওয়াফে কুদুম’ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।
২. রমল করা: হজের তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে পুরুষদের জন্য বীরদর্পে কাঁধ হেলিয়ে দ্রুত পদক্ষেপে চলা বা ‘রমল’ করা সুন্নত।
৩. নির্ধারিত খুতবা শোনা: হজের সময় তিনটি স্থানে (৭ জিলহজ হারাম শরিফে, ৯ জিলহজ আরাফার মসজিদে নামিরাতে এবং ১১ জিলহজ মিনাতে) খুতবা শোনা সুন্নত।
৪. মিনায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও রাত যাপন: ৮ জিলহজ মিনায় জোহর থেকে ফজর পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ও রাত যাপন করা।
৫. আরাফাতের দিকে রওনা: ৯ জিলহজ সূর্যোদয়ের পর মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে যাত্রা করা।
৬. আরাফায় অবস্থানের পূর্বে গোসল: ৯ জিলহজ জোহরের পূর্বে গোসল করা সুন্নত।
৭. সূর্যাস্তের পর আরাফা ত্যাগ: ৯ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফায় অবস্থান করে অতঃপর মুজদালিফার দিকে রওনা হওয়া।
৮. মুজদালিফায় রাত যাপন: আরাফা থেকে ফেরার পথে মুজদালিফায় রাত কাটানো।
৯. মিনাতে রাত যাপন: ১০, ১১ ও ১২ জিলহজ রাতগুলো মিনাতে অতিবাহিত করা।
১০. হাজরে আসওয়াদে চুমু: তাওয়াফের সময় হাজরে আসওয়াদে চুমু দেওয়া বা হাত দিয়ে ইশারা করা।
শরয়ি বিধান অনুযায়ী, সুন্নত ছুটে গেলে হজ বাতিল হয় না ঠিকই, তবে জেনে-বুঝে সুন্নত ত্যাগ করা মাকরুহ এবং সওয়াব কমানোর কারণ হতে পারে। তাই হজের প্রতিটি কার্যাবলিতে মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করা হাজিদের একান্ত কর্তব্য।
/কহু