‘কিক হার আউট’, মমতাকে বিজেপি আইনজীবী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তকে ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে

2026-05-06T13:04:50+00:00
2026-05-06T13:04:50+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
‘কিক হার আউট’, মমতাকে বিজেপি আইনজীবী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১:০৪ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তকে ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ বিজেপি আইনজীবী মহেশ জেঠমালানি। 

মঙ্গলবার (৫ মে) এনডিটিভি-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আচরণ ‘অমার্জনীয়’ এবং তাকে একটি উচিত শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। 

জেঠমালানির মতে, নির্বাচন কমিশন যখন নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যয়িত করে দেয়, তখন থেকেই বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তার পদের আইনি অধিকার হারান। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী দপ্তরে একজন ‘অনুপ্রবেশকারী’ ছাড়া আর কিছুই নন এবং রাজ্যপাল চাইলে পুলিশ পাঠিয়ে তাকে উচ্ছেদ করতে পারেন।

মহেশ জেঠমালানি তার সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে জানান, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের সন্তুষ্টির ওপর ভিত্তি করে পদে বহাল থাকেন। যেহেতু জনরায় তার বিরুদ্ধে গেছে এবং ফলাফল সরকারিভাবে ঘোষিত হয়েছে, তাই রাজ্যপালের উচিত তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্ত করা। 

তিনি বলেন, ‘আমি খুশি যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করেননি, কারণ এখন রাজ্যপাল তাকে বাজেভাবে বরখাস্ত করার সুযোগ পাবেন’। জেঠমালানি আরও যোগ করেন, যদি তিনি স্বেচ্ছায় চেয়ার না ছাড়েন, তবে সংবিধান অনুযায়ী তাকে ‘বের করে দেওয়া’ ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করার জন্য এটিই তার প্রাপ্য বলে এই প্রবীণ আইনজীবী মন্তব্য করেন।

নির্বাচনে ১০০টি আসন ‘চুরি’ করা হয়েছে বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে অভিযোগ তুলেছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে জেঠমালানি তাকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি মমতার কাছে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ থাকে, তবে তিনি নির্বাচনী পিটিশন দাখিল করতে পারেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, এর আগেও সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন আবেদন খারিজ হয়েছে এবং এবারও আদালত তাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করতে পারে। 

জেঠমালানির মতে, প্রমাণ ছাড়া এভাবে অভিযোগ করা নিজেকে হাস্যাস্পদ করে তোলার সমান। নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের যোগসাজশে পরাজয় হয়েছে বলে মমতা যে দাবি করেছেন, তাকেও তিনি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন।

উল্লেখ্য, ফলাফল ঘোষণার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন যে তিনি হারেননি এবং রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন না। আগামী ৭ মে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। এর মধ্যেই জয়ী দল বিজেপির পক্ষ থেকে সরকার গঠনের দাবি এবং মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে। 

ইতিপূর্বে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও একই সুরে কথা বলেছিলেন এবং জানিয়েছিলেন যে দেশ কারো খেয়ালখুশিতে চলে না। সামগ্রিকভাবে, আইনি বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ না করলে রাজ্যপাল তার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে বাধ্য হবেন।

সূত্র: এনডিটিভি

সময়ের আলো/টিএইচ


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: