নেত্রকোণার মদনে মাদ্রাসা ছাত্রী ১১ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত হজরত ফাতেমা তুজ-জোহরা মহিলা কওমি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে (৩০) গ্রেফতার করেছে র্যাব।
বুধবার (৬ মে) ভোর সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে ব্যাব-১৪ এর একটি অভিযানিক দল তাকে গ্রেফতার করে। দুপুরে র্যাব-১৪ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-১৪ এর অধিনায়ক।
১৪ এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেন, প্রযুক্তির সহযোগিতায় র্যাব-১৪ সদস্যরা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থেকে ভোররাতে গ্রেফতার করে।
উল্লেখ, সম্প্রতি ১১ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীর শারীরিক গঠন দেখে তার মার সন্দেহ হয়। পরে তার মাকে বিস্তারিত জানালে গত ১৮ এপ্রিল তাকে স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর চিকিৎসক শিক্ষার্থীকে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানায়। এরপর বাড়িতে নিয়ে এলে শিশুটি জানায়, গত ২ অক্টোবর বিকেলে মাদ্রাসা ছুটির পর ওই শিক্ষক মসজিদের বারান্দা ঝাড়ু দিতে নিয়ে যায়। এ সময় নির্জন পেয়ে শিক্ষক তাকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি কাউকে না বলে তাই ভয়ভীতি দেখায়।
এরপর গত ২৩ এপ্রিল শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে ওই ধর্ষক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ধর্ষণের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত শিক্ষক গাঢাকা দেন। এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেফতার এড়াতে ফেইসবুক লাইভে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এটিকে চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন।
অন্যদিকে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা নিশ্চিত করায় ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নারী চিকিৎসককে অভিযুক্ত শিক্ষক কর্তৃক হুমকি দেওয়ার কথা স্বীকার করে ফেইজবুক লাইভে নিজের নিরাপত্তার সহযোগিতা চেয়েছেন ওই চিকিৎসক।
র্যাব জানায়, শিশুটি পরিবারের একমাত্র কন্যা সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে বাবা তার মাকে ফেলে নিরুদ্দেশ। মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। নানির সঙ্গে থেকে শিশুটি ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতো।
সময়ের আলো/জোই