চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় পচা বরই ও জলপাইসহ ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আচার তৈরির একটি অবৈধ কারখানার সন্ধান পেয়েছে প্রশাসন। এ ঘটনায় জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের নাপিতের চর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ইটভাটায় পরিচালিত কারখানাটিতে অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।
অভিযানে বিপুল পরিমাণ পচা ফল, নিম্নমানের কাঁচামাল, অনুমোদনহীন রাসায়নিক, নকল প্যাকেট ও লেবেল জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আচার তৈরির দায়ে কারখানাটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
অভিযানে দেখা যায়, পচা ও ছত্রাকধরা বরই মেঝেতে ছড়িয়ে রাখা হয়েছে এবং বড়ো ড্রামে রাসায়নিক মিশিয়ে জলপাই সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। দুর্গন্ধে পুরো এলাকা ভারী হয়ে উঠেছিল। শ্রমিকদের কারও হাতে গ্লাভস ছিল না, কেউ খালি পায়ে বা নোংরা কাপড়ে কাজ করছিলেন। একই স্থানে ময়লা-আবর্জনা, মাছি ও পোকামাকড়ের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নির্জন এলাকা ও পরিত্যক্ত স্থাপনাগুলো ব্যবহার করে গোপনে এ ধরনের কারখানা পরিচালিত হচ্ছিল। রাতের বেলায় কাঁচামাল আনা এবং ভোরে প্যাকেটজাত পণ্য সরবরাহ করা হতো দেশের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে।
অভিযানে উদ্ধার করা প্যাকেট ও লেবেলগুলো ছিল নকল এবং এমনভাবে তৈরি, যাতে সাধারণ ক্রেতারা সহজে প্রতারণা বুঝতে না পারেন। পণ্যের গায়ে উৎপাদন বা মেয়াদোত্তীর্ণের কোনো তথ্য কিংবা অনুমোদনের নম্বরও ছিল না।
এছাড়া কারখানাটিতে শিশু শ্রমিকের উপস্থিতিও দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, কম মজুরিতে শিশু ও কিশোরদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করানো হতো।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক মাস ধরে সেখানে সন্দেহজনক কার্যক্রম চলছিল এবং মাঝে মাঝে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেননি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পচা ফল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে তৈরি খাদ্য গ্রহণ করলে খাদ্যে বিষক্রিয়া, ডায়রিয়া, লিভার ও কিডনি জটিলতা এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, খাদ্য নিরাপত্তা আইনের লঙ্ঘন হওয়ায় কারখানাটির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো আপোশ করা হবে না এবং এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
/এসএকে