তাড়াশে এক মণ ধানেও মিলছে না একজন শ্রমিক

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

সারাদেশ

টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে গেছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ফসলি মাঠ। নুয়ে পড়েছে পাকা ধানও। এদিকে শ্রমিক সংকটে ধান কাটা

2026-05-06T23:26:13+00:00
2026-05-06T23:26:13+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
সারাদেশ
তাড়াশে এক মণ ধানেও মিলছে না একজন শ্রমিক
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১১:২৬ পিএম   (ভিজিট : ৫১)
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ফসলি মাঠে নুয়ে পড়েছে পাকা ধান। ছবি : সময়ের আলো
টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে গেছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ফসলি মাঠ। নুয়ে পড়েছে পাকা ধানও। এদিকে শ্রমিক সংকটে ধান কাটা নিয়ে বিপাকে কৃষকরা।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শষ্যভাণ্ডারখ্যাত তাড়াশ উপজেলায় চলতি বছরের ২২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৫ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টিতে নিচু জমির প্রায় ৬০ শতাংশ ধান নুয়ে পড়েছে। জমিতে পানি জমে থাকায় এসব ধান দ্রুত কাটতে না পারলে পচে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

তাড়াশ পৌর এলাকার কৃষক রেজাউল করিম জানান, জমিতে ধান নুয়ে পড়েছে, আবার পুরোপুরি পাকেওনি। এখন কাটতে পারছি না, আবার অপেক্ষা করলে পচে যাবে। এতে অর্ধেক ফসলও ঘরে তুলতে পারব না। 

অপরদিকে শ্রমিক সংকট, কোথাও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও স্থানীয় শ্রমিক পাওয়া যায়, তাদেরকে মজুরি হিসেবে ১ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। আর ১ মণ ধান বিক্রি করা হচ্ছে ১০৫০ টাকা থেকে ১১শত টাকা।

কৃষকরা জানান, এই এলাকায় ধান কাটা শ্রমিকের বড়ো অংশ আসে পাবনার সাথিয়া, সুজানগরসহ  আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে। তবে বর্তমানে বিকল্প কর্মসংস্থান বেড়ে যাওয়ায় অনেক শ্রমিক আর ধান কাটার মতো কষ্টসাধ্য কাজে আসছেন না। তাদের অনেকেই এখন অটোরিকশা, ভ্যান বা অন্যান্য কাজে বেশি আয় করছেন।

উপজেলার ধাপতেতুলিয়া গ্রামের কৃষক কামাল হোসেন জানান, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ফসলি জমিতে পানি জমে ধান নুয়ে পড়েছে আবার হাঁটু পর্যন্ত পানি থাকায় শ্রমিকের মজুরি দিতে হচ্ছে বেশি। 

এছাড়া হারভেস্টার দিয়ে বিঘাপ্রতি ধান কাটতে গত বছর যেখানে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা লাগত, সেখানে এবার ৭ হাজার টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। তবে জমিতে পানি থাকলে হারভেস্টার ব্যবহার করা সম্ভব না। সেই সঙ্গে দ্রুত শ্রমিক সংকট নিরসন না হলে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ধান কাটার ব্যবস্থা না হলে, বড়ো ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষকরা। 

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার শমিষ্ঠা সেন গুপ্তা জানান, এ বছর ধান কাটার খরচ বেড়েছে। এছাড়া বৃষ্টির কারণে বাহিরের শ্রমিকেরা না আসায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। 

এছাড়াও আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি, যে-সব জমির ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, সেগুলো দ্রুত কেটে ফেলতে। অপরদিকে, তাড়াশ উপজেলাতে এখন পর্যন্ত ২৫  ভাগ ধান কাটা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

/এসএকে


  বিষয়:   তাড়াশ  সিরাজগঞ্জ  ধান  শ্রমিক 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: