আমদানি বাণিজ্যে ধসের শঙ্কা

শহিদুল ইসলাম, বেনাপোল

সারাদেশ

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে ভারী পণ্য ওঠা-নামার কাজে ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয়-সংখ্যক ক্রেন ও ফর্কলিফট না থাকায় আমদানি কার্যক্রম

2026-05-07T03:42:51+00:00
2026-05-07T03:42:51+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
আমদানি বাণিজ্যে ধসের শঙ্কা
শহিদুল ইসলাম, বেনাপোল
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৩:৪২ এএম 
বেনাপোল স্থলবন্দর। ছবি : সংগৃহীত
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে ভারী পণ্য ওঠা-নামার কাজে ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয়-সংখ্যক ক্রেন ও ফর্কলিফট না থাকায় আমদানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘসূত্রতা ও আর্থিক ক্ষতি।

এ বিষয়ে বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক বলেন, বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বন্দর কর্তৃপক্ষ। তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে অনেক আমদানিকারক বিকল্প বন্দর ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন, যা বেনাপোল বন্দরের রাজস্ব আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বেনাপোল বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলী বলেন, বর্তমান ঠিকাদারের অদক্ষতা ও যন্ত্র সংকটের কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ইতিমধ্যে আমরা ঠিকাদার পরিবর্তনের দাবিতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বন্দরবিষয়ক সম্পাদক মো. মেহেরুল্লাহ বলেন, ক্রেন অচল থাকায় পণ্য সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। অর্ধেক সক্ষমতা নিয়ে এই বিশাল কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়।

ভারত-বাংলা ল্যান্ডপোর্ট চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন। দ্রুত সমাধান না হলে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, সমস্যা সমাধানে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান। দ্রুতই এই সংকট নিরসন করা হবে বলে আমরা আশাবাদী।

বন্দর-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হওয়া মোট পণ্যের প্রায় ৩০ শতাংশই ভারী ধরনের, যা খালাস করতে ক্রেন ও ফর্কলিফট অপরিহার্য। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, চাহিদার তুলনায় যন্ত্রপাতির সংখ্যা অনেক কম। 

ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী, স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে কমপক্ষে ১২টি ক্রেন ও ২০টি ফর্কলিফট প্রয়োজন। অথচ বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান গ্রেড বেঙ্গল এন্টারপ্রাইজের কাছে রয়েছে মাত্র ৭টি ক্রেন ও ৮টি ফর্কলিফট। এর মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় অর্ধেক সময়েই এসব যন্ত্র অচল থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে জরুরি পণ্য খালাসে ব্যবসায়ীদের দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদনমুখী শিল্প খাত যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি থমকে যাচ্ছে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম।

উল্লেখ্য, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিকটন পণ্য আমদানি হয়, যা থেকে সরকারের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়। দেশের অর্থনীতির অন্যতম এই প্রবেশদ্বারে এমন সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তা জাতীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

সময়ের আলো/জেডি 



  বিষয়:   আমদানি  বাণিজ্য  ধস  শঙ্কা 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: