নামাজের কাতারে মুছে যায় ভেদাভেদ

নাজমুল হাসান

ইসলাম

মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামাতে সব মানুষ দাঁড়ায় সমান কাতারে। ধনী-গরিব, সাদা-কালো, রাজা-প্রজার মাঝে কোনো ব্যবধান থাকে না। সবাই এক

2026-05-07T05:44:39+00:00
2026-05-07T05:46:18+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
ইসলাম
নামাজের কাতারে মুছে যায় ভেদাভেদ
নাজমুল হাসান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৫:৪৪ এএম  আপডেট: ০৭.০৫.২০২৬ ৫:৪৬ এএম
নামাজের কাতারে মুছে যায় ভেদাভেদ
মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামাতে সব মানুষ দাঁড়ায় সমান কাতারে। ধনী-গরিব, সাদা-কালো, রাজা-প্রজার মাঝে কোনো ব্যবধান থাকে না। সবাই এক কাতারে একাকার হয়ে যায়। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের এক কাতারে সমবেত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ইসলামের মূল মর্মবাণীও এটাই। মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই, সবাই আল্লাহর বান্দা। তাই নামাজে কাতার সোজা রাখার গুরুত্ব অপরিসীম। 

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা এবং ফেরেশতারা তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন, যারা কাতার সোজা করে। আর যে ব্যক্তি কাতারে ফাঁক বন্ধ করে আল্লাহ তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন’ (ইবনে মাজাহ : ৯৯৫; মুসনাদে আহমাদ : ২৪৬৩১)। 

আরও এসেছে, হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কাতার সোজা করো। কাঁধগুলোকে বরাবর রাখো। ফাঁক বন্ধ করো। তোমাদের ভাইদের হাতে তোমরা নরম হয়ে যাও এবং শয়তানের জন্য ফাঁক ছেড়ে দিয়ো না। যে কাতার সংযুক্ত করে আল্লাহ তায়ালাও তাকে সংযুক্ত করে দেন। আর যে কাতার বিচ্ছিন্ন করে আল্লাহ তায়ালা তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেন।’ (আবু দাউদ : ৬৬৬)

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘একদা নামাজের ইকামত দেওয়া হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের অভিমুখী হয়ে বললেন, তোমরা তোমাদের কাতারগুলো সোজা করো এবং গায়ে গায়ে মিশে দাঁড়াও। কেননা আমি তোমাদের আমার পেছন দিক থেকেও দেখতে পাই’ (বুখারি : ৭১৯)। অন্য এক হাদিসে এসেছে, হজরত নোমান ইবনে বশির (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের কাতারগুলোকে এমনভাবে সোজা করতেন, যেন তিনি তীর সোজা করবেন। এভাবে তিনি করতে থাকলেন যতদিন না তিনি দেখলেন যে, আমরা তাঁর থেকে বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছি। 

অতঃপর একদিন তিনি নামাজের জন্য বের হলেন। যখন তিনি তাকবির দিতে যাবেন সেই মুহূর্তে এক ব্যক্তিকে দেখলেন সে তার বুক কাতারের বাইরে বের করে রেখেছে। তখন রাসুল (সা.) বললেন, আল্লাহর বান্দারা, হয় তোমরা অবশ্যই কাতার সোজা করবে। নতুবা তোমাদের মাঝে আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই বিরোধিতা সৃষ্টি করে দেবেন।’ (বুখারি : ৭১৭; মুসলিম : ১০০৭)

জামাতে নামাজ আদায়ের সময় তিনটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে লক্ষ রাখা- ১. কাতার এমনভাবে সোজা করে দাঁড়ানো যে, কোনো মুসল্লি যেন তার পার্শ্ববর্তী মুসল্লির চেয়ে এগিয়ে না দাঁড়ায় এবং পিছিয়েও না দাঁড়ায়। কাতার বাঁকা করে আগে-পিছে দাঁড়ানো সুন্নত পরিপন্থী। ২. এমনভাবে দাঁড়ানো, যাতে দুই মুসল্লির মাঝখানে কোনো ফাঁক না থাকে। অর্থাৎ পরস্পরের মাঝে ফাঁক না রেখে দাঁড়ানো। ফাঁক রেখে দাঁড়ানো নিয়মবিরোধী ও সুন্নত পরিপন্থী। ৩. একটি কাতার থেকে অন্য কাতারের মাঝখানে অস্বাভাবিক দূরত্ব না থাকা। বরং স্বাভাবিকভাবে সেজদা করতে যতটুকু দূরত্ব বজায় রাখার প্রয়োজন ততটুকু দূরত্ব বজায় রেখে কাতার তৈরি করা। 

দুই কাতারের মাঝখানে অস্বাভাবিক ফাঁকা রেখে কাতার করাও নিয়ম ও সুন্নত পরিপন্থী। আল্লাহ তায়ালা আমাদের নামাজের কাতার সোজা রাখার তওফিক দান করুন।

সময়ের আলো/জেডি 



  বিষয়:   নামাজ  ভেদাভেদ  ইসলাম 


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: