ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে সফলভাবে সমাপ্ত হবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের দিকে এগোচ্ছে বলে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন থাকলেও, ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জর্জিয়ার রিপাবলিকান গভর্নর পদপ্রার্থী বার্ট জোন্সের সমর্থনে আয়োজিত এক ‘টেলি-র্যালি’তে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না—আর এই একটি বিশেষ কারণেই আমেরিকা বর্তমানে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ট্রাম্পের মতে, পরিস্থিতি যেদিকেই যাক না কেন, এই সংঘাত খুব দ্রুতই মিটে যাবে।
সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, অধিকাংশ মানুষ বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারছেন এবং তারা জানেন যে আমেরিকা যা করছে তা সঠিক। তিনি মনে করেন, বিশ্বশান্তির জন্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা অপরিহার্য এবং এই লক্ষ্য অর্জনেই তার প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।
ট্রাম্পের এই আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার সামরিক সংঘাতের গতিপ্রকৃতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা বিশ্লেষণ চলছে। তবে ট্রাম্পের এই ‘দ্রুত যুদ্ধ শেষ হওয়ার’ দাবিকে অনেক বিশ্লেষক মনস্তাত্ত্বিক কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখছেন।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের এই মন্তব্যের সমান্তরালে কূটনৈতিক পর্যায়েও কিছু তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে। তবে ট্রাম্প তার বক্তব্যে সেই আলোচনার চেয়ে সামরিক সামর্থ্য এবং ইরানকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত রাখার বিষয়টিকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন।
তার মতে, সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে ইরান শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হবে। জর্জিয়ার রাজনৈতিক প্রচারণায় দেওয়া এই বক্তব্য মূলত তাঁর অভ্যন্তরীণ ভোটারদের আশ্বস্ত করার পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রতিপক্ষকেও একটি কড়া বার্তা দেওয়ার চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে তার অনড় অবস্থানকেই পুনরায় স্পষ্ট করল। তিনি বিশ্বাস করেন, দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের পরিবর্তে একটি সংক্ষিপ্ত ও কার্যকর অভিযানের মাধ্যমেই উদ্ভূত সমস্যার সমাধান সম্ভব। তবে এই সংঘাতের প্রকৃত ভবিষ্যৎ কী হবে এবং ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের পথ বেছে নেবে নাকি সমঝোতার টেবিলে ফিরবে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। ট্রাম্পের এই ‘কুইক ওয়ার’ তত্ত্ব শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয় কি না, এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর সেদিকেই নিবদ্ধ।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
সময়ের আলো/টিএইচ