অচল রেলস্টেশনে জনভোগান্তি, দ্রুত চালুর দাবি

মেহেদী হাসান লিটন, গাজীপুর প্রতিনিধি

সারাদেশ

এক দশক ধরে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ইজ্জতপুর ও সাতখামাইর রেলস্টেশন বন্ধ থাকায় ক্রমেই বাড়ছে জনভোগান্তি। তাই স্টেশন দুটো দ্রুত চালুর

2026-05-07T08:50:05+00:00
2026-05-07T13:42:05+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
অচল রেলস্টেশনে জনভোগান্তি, দ্রুত চালুর দাবি
মেহেদী হাসান লিটন, গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৮:৫০ এএম  আপডেট: ০৭.০৫.২০২৬ ১:৪২ পিএম
অচল রেলস্টেশন। ছবি : সময়ের আলো
এক দশক ধরে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ইজ্জতপুর ও সাতখামাইর রেলস্টেশন বন্ধ থাকায় ক্রমেই বাড়ছে জনভোগান্তি। তাই স্টেশন দুটো দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

স্টেশন দুটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত। অথচ, একসময় এখানে প্ল্যাটফর্ম ভরে থাকতো যাত্রীদের ভিড়ে। কেউ ঢাকায় অফিসে যেতেন, কেউ পণ্য নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে পাড়ি দিতেন। স্টেশন-কেন্দ্রিক আশপাশের দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল জমজমাট। স্টেশনটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় স্থানীয় জনজীবন ও অর্থনীতিতে পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব।

আরও পড়ুন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শ্রীপুর ও গাজীপুর সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী ইজ্জতপুর রেলস্টেশনটি ১৯৬৭ সালে চালু হয়। লোকবল সংকটের কারণ দেখিয়ে প্রায় ১০ বছর আগে স্টেশনটি বন্ধ করে দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। একই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সাতখামাইর স্টেশনও কয়েক দফা চালু-বন্ধের পর বর্তমানে অচল অবস্থায় রয়েছে।

একসময় ইজ্জতপুর স্টেশনে ‘সিক্স ডাউন’, ‘এইট ডাউন’, ‘ফরটি ফোর ডাউন’ ও ‘অগ্নিবীণা’সহ কয়েকটি ট্রেন দৈনিক আটবার যাত্রাবিরতি দিত। আশপাশের অন্তত ১২ থেকে ১৫টি গ্রামের মানুষ নিয়মিত এই স্টেশন ব্যবহার করতেন। প্রতিটি ট্রেনে গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ যাত্রী ওঠানামা করতেন।


অন্যদিকে সাতখামাইর স্টেশনটি ছিল শ্রীপুর উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র। বরমী বাজার, টেপিরবাড়ি বাজার, টেংরা বাজার ও লোহাই বাজারের ব্যবসায়ীরা পণ্য পরিবহনে এই স্টেশনের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। শিক্ষার্থীরাও শ্রীপুর সরকারি কলেজ, গাজীপুর শহর ও ঢাকায়  যাতায়াতে ট্রেন ব্যবহার করতেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দুটি স্টেশনই এখন অবহেলায় পড়ে আছে। ইজ্জতপুর স্টেশনের সিগন্যাল ঘর, স্টেশনমাস্টারের কক্ষ, অপেক্ষাগার ও আবাসিক ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। প্ল্যাটফর্মে ময়লা জমে আছে, কোথাও গবাদিপশু বেঁধে রাখা হয়েছে। পাশের বাজারটিও আগের মতো সরগরম নেই। সাতখামাইর স্টেশনেও একই চিত্র- নীরবতা ও অব্যবস্থাপনা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ‘ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে শ্রীপুর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর, ইজ্জতপুর, শ্রীপুর, সাতখামাইর ও কাওরাইদ- এই পাঁচটি স্টেশনের মধ্যে শ্রীপুরের পর সাতখামাইর ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় যাত্রীদের সড়কপথের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে।’

২০১৮ সালে দেশের ৫৯টি বন্ধ রেলস্টেশনের সঙ্গে সাতখামাইর স্টেশন পুনরায় চালু করা হলেও, এক বছরের মাথায় তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। ইজ্জতপুর স্টেশনও দীর্ঘদিন ধরে অচল। স্টেশন দুটি চালুর দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা গত কয়েক বছরে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন।

বরমী ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য নাজমুল আকন্দ রনি বলেন, ‘সাতখামাইর রেলস্টেশন ঘিরে বরমী ইউনিয়নের বিশাল জনগোষ্ঠী এবং আশপাশের এলাকার ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ অনেক মানুষের যাতায়াত সহজ ছিল। স্টেশন বন্ধ থাকায় তারা সমস্যার মুখে পড়ছেন।’

এদিকে স্টেশন দুটি চালুর জন্য গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু  জাতীয় সংসদে দাবি জানিয়েছেন। জবাবে রেলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘স্টেশনমাস্টার নিয়োগের পর স্টেশন দুটি চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

সংসদ সদস্য এম এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, ‘শিল্পসমৃদ্ধ শ্রীপুরে দীর্ঘদিন দুটি স্টেশন বন্ধ থাকায় মানুষের চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। দ্রুত স্টেশন দুটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করি, স্থানীয়রা শিগগিরই এর সুফল পাবেন।’

শ্রীপুর স্টেশনের স্টেশনমাস্টার সাইদুর রহমান বলেন, ‘স্টেশন দুটি চালু হলে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে, বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব বাড়বে। পাশাপাশি ট্রেনের চলাচল আরও সুশৃঙ্খল হবে।’

স্থানীয়দের দাবি, জনস্বার্থে দ্রুত ইজ্জতপুর ও সাতখামাইর রেলস্টেশন পুনরায় চালু করে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা সচল করা হোক।

/মহু


  বিষয়:   রেলস্টেশন  চালু  ইজ্জতপুর  সাতখামাইর  গাজীপুর 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: