পশ্চিমবঙ্গের হবু মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী তার একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে পরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৬ মে) রাতে মধ্যমগ্রামের একটি হাসপাতালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই অভিযোগ করেন।
সেই সময় তার পাশে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার উপস্থিত ছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্টভাবে জানান, এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে গভীর রাজনৈতিক যোগসূত্র থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি নিহত চন্দ্রনাথের শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব দল বহন করবে বলে নিশ্চিত করেছেন।
হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, তিনি ইতিমধ্যে রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজি) সিদ্ধনাথ গুপ্তের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে তদন্তের স্বার্থে এবং প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য তিনি এখনই পুলিশের কাছ থেকে ফুটেজ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে চাননি। শুভেন্দু পুলিশের ওপর আস্থা প্রকাশ করে আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
রাজ্যের বর্তমান উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে শুভেন্দু অধিকারী তার দলের কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। তিনি সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।
শুভেন্দুর মতে, এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণ করা এবং আইনি প্রক্রিয়ার ওপর ভরসা রাখাই দলের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। ব্যক্তিগত সহকারীর মৃত্যুতে শোকাহত হলেও তিনি রাজনৈতিক সংঘাত এড়িয়ে সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।
চন্দ্রনাথ রথের এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীর মতো শীর্ষস্থানীয় নেতার অতি ঘনিষ্ঠ কাউকে লক্ষ্যবস্তু করায় নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
হবু মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারীর ওপর এই ধরনের হামলাকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক। বর্তমানে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান চালানো হচ্ছে।
সূত্র: আনন্দবাজার।
সময়ের আলো/টিএইচ