বগুড়া জেলায় সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর ধারাবাহিক সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কর্মতৎপরতা সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র ২২ দিনের ব্যবধানে বৃহস্পতিবার (৭ মে) পুনরায় চারজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সরকারি সফরে বগুড়ায় আসছেন।
এই সফরের মূল উদ্দেশ্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বগুড়া বিমানবন্দর পুনরায় চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই এবং একটি ফ্লাইং অ্যাকাডেমি স্থাপনের বিষয়গুলো সরেজমিন পরিদর্শন করা। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এই কর্মকর্তাদের আকাশপথে বগুড়ায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, এই ঘনঘন উচ্চপর্যায়ের সফরের ফলে বগুড়ার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে।
এবারের সফরসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা), প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং সচিব ফাহমিদা আখতার। তারা বগুড়া বিমানবন্দর পরিদর্শন করে এটি সচল করার বাণিজ্যিক ও কারিগরি দিকগুলো পর্যালোচনা করবেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিমানবন্দরটি চালু হলে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এর পাশাপাশি সেখানে একটি আধুনিক ফ্লাইং অ্যাকাডেমি নির্মাণের প্রাথমিক সম্ভাবনা নিয়েও কর্মকর্তাদের আলোচনার কথা রয়েছে।
একই দিনে শিক্ষা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে বগুড়ায় অবস্থান করছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক। সকাল ৯টায় পল্লী উন্নয়ন অ্যাকাডেমি (আরডিএ) মিলনায়তনে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তক পর্যালোচনা ও পরিমার্জন বিষয়ক একটি কর্মশালায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন।
এর আগে গত ১৩ ও ১৪ এপ্রিল দুই দিনের ব্যবধানে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বগুড়া সফর করেছিলেন। ধারাবাহিকভাবে এত অল্প সময়ে ছয়জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতি জেলাটির প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক গুরুত্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বগুড়ার জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালনরত উপপরিচালক রাজিয়া সুলতানা মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বিমানবন্দর পরিদর্শনের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি ও প্রাসঙ্গিক কার্যক্রমগুলো খতিয়ে দেখবেন।
স্থানীয় প্রশাসন এই ভিভিআইপি সফরকে ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও প্রটোকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বগুড়াকে ঘিরে সরকারের এই বিশেষ মনোযোগ অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।
সময়ের আলো/টিএইচ