রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার মাল্লাপট্টি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ১ কোটি ৫২ লাখ টাকার সড়কের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, রাতের অন্ধকারে পাথরের সঙ্গে ইটের রাবিস খোয়া মিক্স করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। পরে স্থানীয়দের তোপের মুখে পাথর থেকে এসব খোয়া সরিয়ে নেওয়া হয়।
পাথরের সঙ্গে ইটের রাবিস খোয়া মেশানোর কথা স্বীকার করেছেন খোদ গোয়ালন্দ উপজেলা জনস্বার্থ প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম। তার কথায়, রাতের অন্ধকারে ভুলবশত শ্রমিকরা পাথরের সঙ্গে ইটের রাবিস খোয়া মিক্স করেছিল। আমি সেগুলো সরিয়ে দিয়েছি। সরকারি নকশায় কাজ করলে বেশি দিন টেকসই হতো না। তাই কাজের নকশায় কিছুটা পরিবর্তন করছি।
নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি আরও বলেন, কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। আমি কোনো টাকা আত্মসাৎ বা অনিয়ম করিনি। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও গুজব।
এদিকে ঘটনা তদন্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন পৌরসভার ডিপিডি মাহমুদ টিপু। তিনি বলেন, কাজে কোনো অনিয়ম হলে জড়িতদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। নেওয়া হবে বিভাগীয় ব্যবস্থা।
জনস্বার্থ প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, চার মাস মেয়াদি কাজটি পায় বিসমিল্লাহ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি কাজটি শুরু হয়ে ২১ এপ্রিলের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিক্রম করে চার মাস অতিবাহিত হলেও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এখনও শেষ হয়নি কাজ। শুধু বারবার ঠিকাদার পরিবর্তন হয়েছে।
অথচ কোনো ঠিকাদারই কাজ করেনি। সবাই শুধু হাতবদল করেছে, আর অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই হাতবদল নামক নাটকের মূলে রয়েছে জনস্বার্থ প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম। শুধু তাই নয়, এই কর্মকর্তা সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে কাজের এস্টিমেট বা নকশা (ডিজাইন) পরিবর্তন করে নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করে মোটা অঙ্কের অর্থ লোপাট করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাথরের মধ্যে ইটের খোয়া মিক্স করে ঢালাই দেওয়া, সিলেকশন বালুর সঙ্গে ভরাট বালু ও অল্প সিমেন্ট মিক্সড করে, নম্বরবিহীন ইট দিয়ে গাইডওয়াল তৈরি করা, গাইডওয়ালের বেশিরভাগ খুঁটিতে রড না দেওয়া, ১২ মিলি রডের পরিবর্তে ৮ মিলি রড দেওয়া, খুঁটিতে চারটি রডের পরিবর্তে তিনটি রড দেওয়া, খুঁটির সাইজ ১২ ফুট হওয়ার পরিবর্তে ৮ ফুট হওয়া, গাইডওয়ালের খুঁটিতে পাঁচমিশালি রড দেওয়াসহ নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগে একাধিকবার স্থানীয় জনগণের সঙ্গে তর্কবিতর্কের জেরে রাস্তার কাজ বন্ধ হয়েছে। কিন্তু তারপরও কাজের গুণগত মানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
ফলে এখনই গাইডওয়ালের খুঁটিতে ফাটল ধরেছে। কোনো কোনো জায়গায় রাস্তা নিয়ে গাইডওয়াল ভেঙে ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। অথচ এত কিছুর পরও অদৃশ্য কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই জনস্বার্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে বহাল তবিয়তে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে এখনও চলমান রয়েছে রাস্তার কাজ। স্থানীয়রা বলছেন, এই কাজ তিন মাসের বেশি টেকসই হওয়ার কথা নয়। কাজের গুণগত মান খুবই খারাপ হয়েছে। যেকোনো সময় গাইডওয়াল ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
সময়ের আলো/এসএকে