গোদাগাড়ীতে ১০ কোটি টাকা ব্যায়ে সড়ক সংস্কার, লুটপাটের অভিযোগ

গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি

সারাদেশ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভায় ১০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে চলমান সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

2026-07-27T22:09:28+00:00
2026-07-27T22:11:37+00:00
 
  সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬,
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
গোদাগাড়ীতে ১০ কোটি টাকা ব্যায়ে সড়ক সংস্কার, লুটপাটের অভিযোগ
গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৯ পিএম  আপডেট: ২৭.০৭.২০২৬ ১০:১১ পিএম
নিম্নমানের ইট বালু রেখে দেওয়া হয়েছে রাস্তার সংস্কারের জন্য। ছবি : সময়ের আলো
রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভায় ১০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে চলমান সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের যোগসাজশে সিডিউল লঙ্ঘন করে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের মাধ্যমে এই হরিলুট চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ইতোমধ্যে নিম্নমানের কাজ ও ভোগান্তির কারণে স্থানীয়রা দুই দফা কাজ বন্ধ করে দিলেও থামেনি অনিয়ম।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) আরইউটিডি প্রকল্পের আওতায় ১০ কোটি ১৯ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে চার কিলোমিটার ৯৮০ মিটার দীর্ঘ এই সড়ক সংস্কারের কাজ পেয়েছে ঢাকার খিলগাঁও এলাকার ‘এমএ ইঞ্জিনিয়ারিং’। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. মোস্তফা হলেও কাজটি সাব-কন্ট্রাক্টে বাস্তবায়ন করছে রাজশাহী মহানগরীর ভাটাপাড়া এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এলিজা এন্টারপ্রাইজ’ (স্বত্বাধিকারী আসাদুল ইসলাম)। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মধ্যে ১ হাজার ২০০ মিটার দীর্ঘ ড্রেন নির্মাণকাজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সরেজমিনে গোদাগাড়ী পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে চরম অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির চিত্র।

গোদাগাড়ী মহল্লার ড্রেন নির্মাণকাজে সিডিউলের শর্ত উপেক্ষা করে তিন নম্বর ইটের খোয়া ও নিম্নমানের বালু ব্যবহার করা হয়েছে। ড্রেনের ঢালাইয়ে সামান্য আঘাত করতেই তা ভেঙে গুঁড়িয়ে যেতে দেখা যায়। এছাড়া ড্রেনের তলদেশে ছয় ইঞ্চি বালু ভরাটের নিয়ম থাকলেও তা করা হয়েছে মাত্র দুই ইঞ্চি।

ঝুম বৃষ্টির মধ্যেই ড্রেন ঢালাইয়ের কাজ চালানোর চাঞ্চল্যকর দৃশ্য দেখা গেছে ভগবন্তপুর এলাকায়। এ বিষয়ে উপস্থিত আরইউটিডি প্রকল্পের উপসহকারী প্রকৌশলী হারেস শেখের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।

ড্রেন থেকে তোলা মাটি দিয়ে এক ব্যক্তির দেড় বিঘা আয়তনের পুকুর অবৈধভাবে ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা নির্মাণসামগ্রীর কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে সড়ক আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে রিকশা ও মোটরসাইকেলের মতো হালকা যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে।


পদ্মা নদীসংলগ্ন এলাকার একটি ব্রিজ চার মাস আগে ভেঙে ফেলা হলেও এখনো নতুন কাজ শুরু হয়নি। ফলে এলাকার লক্ষাধিক মানুষ এক কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। হাটে আসা ব্যবসায়ীরাও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

গাঙ্গোবাড়ি এলাকায় রাস্তা রক্ষায় নির্মিত গার্ডওয়ালে তিন নম্বর ইট এবং সড়কের স্তূপে ভরাট বালুর সঙ্গে এঁটেল মাটি ও ইটভাটার রাবিশ মেশানোর প্রতিবাদে স্থানীয়রা দুই দফায় কাজ বন্ধ করে দেন। এলাকাবাসী জানান, এভাবে কাজ চললে ছয় মাসও টিকবে না এই সড়ক।

সুলতানগঞ্জ এলাকায় ঠিকাদারের ইয়ার্ডে বিশাল স্তূপে ভরাট বালুর সঙ্গে তিন নম্বর ইটের খোয়া মিশিয়ে তা ট্রাকে করে সংস্কারকাজে সরবরাহ করতে দেখা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী প্রকৌশলী ও পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত সচিব সারওয়ার জাহান মুকুল সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিন নম্বর ইটের খোয়া বা ভরাট বালু ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয়। সিডিউল অনুযায়ী পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। ইয়ার্ডে থাকা কিছু নিম্নমানের সামগ্রী আর ব্যবহার না করার জন্য ঠিকাদারকে বলা হয়েছে। ব্রিজের ডিজাইন পরিবর্তনের কারণে কাজ শুরু করতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। আমাদের বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এলিজা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আসাদুল ইসলাম দাবি করেন, বৃষ্টির কারণে ইটের রং কিছুটা নষ্ট হয়েছে, তবে কোনো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি। প্রকৌশলীদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও পুরোপুরি মিথ্যা।

এ বিষয়ে এলজিইডি রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, বর্তমানে তিনি ঢাকায় মিটিংয়ে আছেন। রাজশাহী ফিরে খোঁজ নেব। অভিযোগের ব্যাপারে সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সময়ের আলো/জোই



  বিষয়:   গোদাগাড়ীতে ১০ কোটি টাকার সড়ক সংস্কারে লুটপাটের অভিযোগ 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: